কবিতাত্রয়ী

|| ব্যাঙাচি ||

হৃদপিণ্ড দিব্যি কাজ করছে
জল পান করছি
রক্তে অনুভব করছি দুঃশাসনের অহমিকা;
গতকাল আমি জন্মেছিলাম
ছুঁড়েছি বলিষ্ঠ হাত পা
পেয়েছি মায়ের আঁচলে দ্রৌপদীর ঘ্রাণ –

কাল আমার রক্ত খোঁজে নিবে রক্তের শরীর
স্বপ্ন দেখবো আমি
কাল আমি মানুষ হবো । পুরুষ মানুষ ।

|| অহম ||

পতনের অভিশাপ নিয়ে কোথায় যাবে!
আমি পাহাড়ের কাছে যাই
দুর্বিনীত অহংকারের মতো দেখি তারে
চূড়ান্ত নৈঋত গম্ভীর কণ্ঠে
ডেকে রাখি পাহাড় সমান ক্ষুদ্র আমাকে ।

|| দৌড় ||

আমাকে পালানোর জন্যে দুটি পা দেয়া হলো, রৌদ্রময় দিনের পর গোধূলির ধ্যানে আমি পালিয়ে যাবো । আমি অতৃপ্ত রসনার কথা বলতে চেয়েছিলাম নিজের গোপন প্রজাপতির ডানায়; ভর সন্ধ্যার ধূপগন্ধী সবুজ তেপান্তরের অবোধ্য বিবমিষা নিজের কাছে জমিয়ে। তাই আমি পালিয়ে যাবো, পালাবো নদীর শরীর থেকে নীলিমার মাতাল ঢেউ ধরে। আমি পালাবো এমন দ্বার বরাবর যাদের দখিনা বাতাস ছুঁয়ে যায় ঘটের প্রতীকে হাজার প্রতিমার তিলোত্তমায় । আমি পা বিছিয়ে পালানোর অপেক্ষা করি পরিযায়ী পাখি হয়ে। প্রকোষ্ঠে জমানো বেনামী বদনাম আর অহংকারী কবিতা আমায় পালাতে বলছে ; আমি বরং পালাই।

স্নিগ্ধা বাউল