কবির হোসেনের কবিতা

এলার্ম ঘড়ি

ঘুমে ডুব দিয়ে ঘুমের তলদেশে যেতে চাইলেও, শ্বাস নাক আর মুখকে শ্বাসকার্যে জাগিয়ে রাখে বলে ঘুমের তেমন একটা গভীরে যেতে পারি না। হৃৎপিণ্ডকেও শ্বাস সচেষ্ট রাখে আমাকে ধরে রাখতে, যাতে লম্বা ডুব দিয়ে ঘুমের অতলে তলিয়ে না যাই। শ্বাসের প্রতিরাতের এই রাজনীতির বিরুদ্ধে একদিন ঘুরে দাঁড়াই, ঘুমানোর আগে শ্বাস খুলে রাখি টেবিলে, চশমার পাশে। তার পাশেই রাখি একটি এলার্ম ঘড়ি, যাতে সকালে সে শ্বাস মুখে তুলে দেয়, জাগিয়ে তোলে আমাকে।

ঘুমের অতলে যেতে যেতে মনে পড়ে— ভুলে গেছি ঘড়িতে এলার্ম দিতে।

নরকের ঢেঁকি

ফসলি এক জমিতে ধানের গোছার মতো কতোগুলো বিল্ডিং রোপন করা হয়েছিল। আশ্চর্য, মাটি এতোটাই উর্বর যে এক মৌসুমে সবকটা বিল্ডিংই তরতাজা হয়ে উঠলো। আবার বিল্ডিংগুলোতে ফলনও ফলেছে দারুণ— একেকটা বিল্ডিং-এ ফলেছে পঞ্চাশ কিংবা ষাট সত্তর তলা। ফসল কাটার দিনে আরেক আশ্চর্য দেখতে পেলাম। ফসল না কেটে চাষী ক্ষেতে রেখেই ফসল বিক্রি করে দিতে লাগলো— আর লোকজন ফসল কিনে কিনে ফসলের ভেতরে ঢুকে পড়তে লাগলো পরিবারসহ।

আশ্চর্য, নবান্নের উৎসব করে— ফসলগুলো মানুষ খেতে লাগলো।

কবির হোসেন