নুসরাত নুসিনের কবিতা

সুলতার কোকিল উড়ে যায়

সুলতা—এখনো ফাঁকা মাঠ, মৌসুমে লাঙ্গল চলেনি তার খেতে।
উনুনে ফোটেনি আগুনের খই। ঋতু বদলে জীবন বহিয়া যায়।
সুলতার কোকিল উড়ে যায়।

একটা ভ্রমের পাখির আওয়াজ বহুদিন পিছু ধরেছে। মাটির গানেরা
সব আল ধরে চলে। একলক্ষ কামিনীর চারা পুঁতে যায়। আর ঋতুহীন
বীজ ফেলে যায়।

সুলতা—এখনো ফাঁকা মাঠ। মৌসুমে তার কোকিল উড়ে যায়।


শরীর শিশির হলে

দিকে দিকে আপেলকুল, ঋতুচক্রে দেখা হলো মাঘের শিশির
ক্রমশ স্ফিত হচ্ছে কুয়াশার জাল, তোমার গমনাগমন।
এটুকু বাকি ছিল—নামিশ্রিত বাক্যের ভেতর লুকিয়েছিল
ফুলেল পরাগ। ভাল—এই বিরহঘূর্ণি আজ স্পষ্ট হলো।
এ শরীর শিশির, মুঠোতে শিশিরবিন্দু, বিরামহীন শীতের প্রান্তর
পথে ছিল ঘোড়া। কল্কেও আবেশ। পথে ছিল চুল্লির মিছিল।
হৃদয় সুষুম্না হলে তুমি গেলে চৈত্রের দিকে
শূন্যতা—পানিশূন্যতা সকল শুষ্কতাই পেল বিপুল ওম।
নাফোঁটা দৈর্ঘ্যর ভেতর ফুটে উঠল দু’জনের উষ্ণকীর্তন।

নুসরাত নুসিন