রিগ্যান এসকান্দারের কবিতা

ভোগদখল

যদিও আমার বাঁচার প্রচণ্ড সাধ ছিল
তথাপি আমি মৃত্যুরোগে ভুগছিলাম।
এক দিন মৃত্যুর স্বপ্নও দেখলাম।

এ স্বপ্ন দেখার পর আমি মৃত্যুর জোগাড়জান্তি করি।
একটি কাফনের কাপড়, আগরবাতি আর গোলাপ জল
কিনে এনে এগুলো বাড়িতে রাখি।
প্রস্তুতি আমি নিয়েছিলাম ঠিকঠাক।
কিন্তু পরদিন আমি নয়, মারা গেল বাড়ির পাশের
ভীষণ দরিদ্র লোকটির যুবক ছেলেটি।

আমি তখন দারুণ খুশি মনে
আমার সমস্ত মৃত্যুদ্রব্য দিয়ে দিলাম ঐ যুবককে।
আর এটি আমার মহত্ব ছিল, এ কথা প্রচার করতে করতে
এ পৃথিবীতে কাটিয়ে দিলাম আরও ত্রিশটি বছর।

ত্রিশ বছর পর আমার মৃত্যুর দিন আমার মনে হলো,
আমি মূলত মহৎ নয়, এক সেয়ানা ক্রেতা ছিলাম।

এক কাফনের কাপড়, আগরবাতি আর গোলাপজলের
বিনিময়ে আমি এত দিন ভোগদখল করেছিলাম
এক যুবকের দীর্ঘ ত্রিশ বছরের আয়ু।

এক নলা বন্দুক, দুটি গুলি

চোরাই পথে যেই বন্দুক পৌঁছে যায় বিপ্লবীর হাতে
তার জন্মপরিচয় জানা কি খুব জরুরি হয়ে পড়ে?

দক্ষ বিপ্লবীর হাতের তালুই
মূলত বন্দুকের জন্মনিবন্ধন সনদ,
একথা না জেনেই পরিবারসুদ্ধ একদা এক বিপ্লবীকে
ধরে এনে তোলা হয় সাম্রাজ্যবাদীদের কাঠগড়ায়।

বিপ্লবীর হতভম্ব শিশুসন্তানের দিকে দৃষ্টি দিয়ে
সন্দেহের চোখেই বিচারক বলেন,
‘গণতন্ত্রের মতো মিষ্টি চেহারার বালক,
সত্যিই কী এ বন্ধুকধারী রুক্ষ লোকটি তোমার বাবা?’

শিশুটি হতবাক, চোখে মুখে ঘৃণা ও রাগ।

এজলাসের দিকে মুখ করে শিশুটি তার লাল হাফপ্যান্ট
হাঁটু পর্যন্ত নামিয়ে হঠাৎই বলে ওঠে,

এ দেখ এক নলা বন্দুক, দুটি গুলি।
বাবা না পারলে আমি শালা
উড়িয়ে দেব এ সাম্রাজ্যবাদের খুলি।

রিগ্যান এসকান্দার