সাগর শর্মা’র কবিতা

প্রার্থনালয়

আমি কোনোদিন মন্দিরে যাইনি, কোন মসজিদেও না,
পৃথিবীর কোন প্রার্থনালয়ে আমি কখনোই যাইনি!

মায়ের পায়ে হাত দিয়ে কদমবুসি করলেই আমার মন্দির দর্শন হয়ে যেত!
বাবার মুখের মতো কোন মসজিদের চূড়া আমি পৃথিবীর কোথাও দেখি নাই!
মসজিদে সিজদা দেওয়ার ইচ্ছে হলে আমি শুধু প্রার্থনার ভঙ্গিতে আমার বাবার করুণ মুখের দিকে তাকিয়ে থাকতাম; আমার মসজিদ দর্শন হয়ে যেত।

আমার দুয়েকটা ভাই গির্জার দিকে গিয়েছিল; কেউ কেউ প্যাগোডার দিকে—

কিন্তু আমার বোনেরা শুধু কোনো প্রার্থনালয়ের দিকে যায়নি!

তারা সবাই একে একে চলে গিয়েছিল পতিতালয়ের দিকে;
পৃথিবীতে পতিতালয়ের মতো কোন পবিত্র প্রার্থনালয় নেই!
যেন আমার বোনেরা নিজেদের শরীরেই তৈরি করে নিয়েছিল একেকটা প্রার্থনাগম্বুজ!
ঐ দেহচূড়ায় নিয়ম করে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবাই সিজদা দিতে যেত।

পৃথিবীতে পতিতালয়ের মতো আদর্শ কোন প্রার্থনালয় নেই আর!

বিজ্ঞাপন

বিলবোর্ড থেকে লাফিয়ে পড়ছে বিজ্ঞাপনের হাসি—
টি-স্টলে আমার সাথে মেহ্জাবীন চা খেতে চাইছে—
চুলের বিজ্ঞাপনে আমি মৌসুমীর বদলে প্রেমিকারে দেখতে পাইতাছি।
নিমিষে মেহ্জাবীনের চা খাওয়ার আবদার আমি ফিরাইয়া দিই
ফিরায়া দিয়া আমি প্রেমিকা মৌসুমীর লগে চা খাই।
মেহজাবীনের চোখে-মুখে অন্ধকার নাইমা আসে—
‘বিজ্ঞাপনে ঢেকে যায় মুখ।’

আমি অন্য বিলবোর্ডের দিকে তাকাই—
দেখি জয়া আহসান আমারে চোখ মারতাছে
সাবানের বিজ্ঞাপন সাইরা এইমাত্র যেন শাওয়ার ছাড়ছে সে—
তারে খুব কিউট লাগতেছে!
যেন তার রূপ থেইকা ঝরে পড়ছে আভিজাত্যের নরম ছোঁয়া!
কিছুদূর যাইতেই ঝমঝমিয়ে নামছে বৃষ্টি;
বৃষ্টিতে উদ্দাম বুক দুলাইয়া নাচতাছে প্রভা—
প্রভার এমন নাচ দেইখা আমার খালি শৈশবের শোভারে মনে পড়ে যাইতেছে!
শোভাও কী একদিন এইরকম নেচেছিল তুমুল?

বৃষ্টি থেমে গেলে আমি হাঁটতে থাকি—
আর হারিয়ে যাওয়া প্রেমিকারে খুঁজতে থাকি— বিলবোর্ডে বিলবোর্ডে।
নাম না জানা সুন্দরীদের কোমল হাসি দেখি;
প্রেমিকারে কোথাও দেখিনা—

বিলবোর্ডে সুন্দরী রমণীদের হাসি হাসি মুখ দেখতে চরম লাগে
এইসব হাসিফুল দেখতে দেখতে প্রেমিকার চেহারার আদল দিব্যি ভুলে যাই—
সে জানি এত বিজ্ঞাপনের ভীড়ে কার বুকের বিলবোর্ডে মুখ লুকায়!

সাগর শর্মা