লুনা আহমেদের কবিতা

মৃত্যু নয়, মৃত্যুর অধিক

ছবি আঁকতে দিলে প্রথমে স্তনের ছবি আঁকি। তারপর মা, মায়ের মুখ আঁকার সাথে সাথে মনে হয় স্বর্গ এঁকে ফেলেছি।
এরপর মানুষ আঁকার চেষ্টা চলে। মায়ের ছবি দেখে দেখে অনেককিছু এঁকে ফেলতি পারি। ফুল – নদী,পাখি – গান, পাহাড় – আকাশ…

এভাবে আঁকতে আঁকতে বাবা পর্যন্ত পৌঁছতে গিয়ে আর মানুষ আঁকা হয় না। যেহেতু, এ পর্যন্ত আসতে আসতে মানুষের নতুন পরিচয় জেনে যাই।

স্বর্গ থেকে নরকের দূরত্ব বেশি না। সর্বোচ্চ মৃত্যু পর্যন্ত।

আম্মার চোখ

আম্মার চোখ — এক আশ্চর্য জায়নামাজ
সেজদায় গিয়ে কাঁদে কপালের ঘাম
ঘাম বেয়ে নেমে আসে শ্রান্তি – শরীর
শরীরেরগাঁটে বাজে শ্মশানের গান
গান শুনে ভেঙে যায় ঘুম বান্দার।

কাঠগোলাপের ঠোঁটে নীল পালঙশাক
কাঠঠোকরার ঠোঁটে সভ্যজগৎ
কাঠখড় পুড়ে লেখি গল্প -পুরাণ
অপাঠ্য থেকে যায় — আম্মার চোখ।

বাতাসে ভেসে বেড়ায় কুরআনিক সুর…

লুনা আহমেদ