আফ্রিকান নদীর বাঙলা অনুবাদ

আফ্রিকান নদীর বাংলা অনুবাদ সম্পর্কে কবি বলছেন, “কোনো আফ্রিকান নদী আমি কখনো চাক্ষুষ করিনি, তবে কল্পনা করতে পারি বাঙলার নদীর মতো নয়। নিশ্চয় অনেক পাথর, অচেনা গাছ, অচেনা পাখি, জলে সিংহের ছবি আঁকা! আর ভাষা? জটিলেশ্বর ও দূর্গম!

সামান্য লেখালিখি করতে গিয়ে বুঝি, ভেতরে লুকানো কিছু শব্দের স্রোত প্রতি মুহূর্তে বয়ে নিয়ে যায় আমাকে, যার ভাষাও একটা আফ্রিকান নদীর মতো দুর্বোধ্য। যাকে পাতি বাঙলায় অনুবাদ করাটা জরুরি…”।

আফ্রিকান নদীর বাঙলা অনুবাদ ।। প্রথম কিস্তি

( ১ )

অক্ষরে অক্ষরে গেঁথে রেখে দাও আমাকে, মিলিয়ে
দিও না, আজন্ম আলপিনে ফুটো ফুটো হয়ে আছে
খাতা, যে যেভাবে পারে, এঁকে যাবে নিজের ক্ষমতা

এঁকে যাবে দোয়েলের কালি, তুমুল মেসেজি
আদর, আহ্লাদ ভেঙে ভেঙে, ছিঁড়ে কুটিকুটি, চোখে
চোখে উড়িয়ে দিয়েছি ভোর…

কী দারুণ দিনের কলপ মেখেছে শহর, যেন কোনো
মরা ট্রাম নেই আর, শুকনো ভিখারির বাটি, সবটুকু
মুছে দেবে হাতুড়ির ছবি ছাপা ওষুধ, আমি কুড়িয়ে
আনবো ভাঙা মেলা, ঘুঘনির ঝাল, রঙ করা
মুখোশের মুখ…

তা’লে আর যেন নড়চড় না হয় কথার, পাথর চাপা
দাও জিভে, দেখা হবে কি না হবে, কে জানে, কবে,
কোথায়! ঘুম থেকে উঠেও মানুষ, লোভে লোভে
রাতে ফিরে যেতে চায়!

( ২ )

সিগারেট না খাওয়া ঠোঁটে খুব পাতি দু’টো পাখি
বসে থাকে, একটা মরে গেলে আরেকটা এমনি
এমনি মরে যায়!

আমি কিন্তু চেয়েছিলাম অগ্রাহ্য রঙের বাড়ি,
আত্মহত্যার কলঙ্ক মাখা ইঁদারা, কালো চুম্বনের
চৌকাঠ।

ডাকাত পড়া কোনো রাতের কথা ভাবো, পুলিশের
হুইসে্ল, ছুটে আসা অন্ধকার বিঁধে গেছে পিঠে,
চাপ চাপ জবাফুল, দরজা ধাক্কাধাক্কি করেও সাড়া
মেলেনি ডাক্তারের!

কপালে থার্মোমিটার এঁকে দেওয়ার কথা ছিলো,
ক্লিভেজে লুকানো আলপনা আমি হাতেনাতে ধরে ফেলি

আর কোনো মেসেজ জোটেনি, শুধু গুড নাইট…

( ৩ )

মৃত্যুর হাতে পায়ে ল্যাম্পপোস্ট বেঁধে ছেড়ে দেব,
যাতে অন্ধকার না খুঁজে পায়, ও তো আমাদের
লাশ, চেনা চেনা চুমুর বোতল, শেষ ভাগাভাগি করে
খাওয়া ধর্মসমাজসম্পর্কলোকলজ্জাদোষ,
আদরের দুধ জমে বুকে, প্রেমিক আমি, বোঁটা ছিঁড়ে
নেওয়া রাক্ষস…

পুড়ে যাওয়ার কথা ছিলো, সব বাকলের ব্রিজ,
কংক্রিটের নাল ঝোল, ইঞ্জিনের ঠাণ্ডা শরীরে জং,
সাদা কালো ফুলের বাগান থেকে তুলে আনা কঙ্কালে
বসিয়েছি মাংস চামড়া শিরা ঢেউ!

হাতে আর কোনো জাহাজ নেই, নোনা শব্দের
থেকে দূরে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকি, শামুক শোনার
অভ্যাসটুকু নিয়ে উড়ে গেছে আহত জোনাকি…

( ৪ )

হাতের মধ্যে থেকে উঁকি দিচ্ছে আরেক টুকরো হাত,
নখের আড়ালে ভিতু অক্ষর জড়িয়ে ধরে আরেক
অক্ষরের আঙুল…

ও ম্যাজিক ফুড়ুৎ, তুমি আমার ঠোঁটের ঘরে বোতাম
লাগিয়ে দাও, যাতে সব ভেতরেই মরে যায়,
যাতে অসুখ না ছড়িয়ে পড়ে জিভের তলায়।

পিঁপড়ে ধরা চোখের দিকে তাকিয়ে আমার বিশ্বাস
মানুষ ফুরিয়ে গেলে আসল কাজল শুরু হবে,
সারা রাত, সারা রাত, সারা অন্ধকার, আমি কী করবো!
পাশবালিশ পেতে দেব রাস্তায়, তোষক কম্বলে আই
ঘুম যাই ঘুম দেব, চিৎকার করবো জল পুকুর নদী সমুদ্র!

ততক্ষণে গাল ভিজে গেছে, মেকআপের রাজত্ব ফিনিশ…!

মৃন্ময় ভৌমিক