হাসনাত নাগাসাকি’র কবিতা

বেখেয়াল

তালপাতার আঙটিটা বাঁহাতে কোথায় রেখেছ –
মনে পড়ছে না?

অন্তত দুবার বলেছি –
ওটাই স্বর্গের দরোজার চাবি।

তোমার এ বেখেয়ালি মনে
জায়গার এতোই সঙ্কট!
যখন যা কিছুই রাখতে দিয়েছি –
পরক্ষণেই হারিয়ে বসে থাকো!

আঙটিটা খুঁজে নেবে, জানি।
অন্তত, হয়তো, আজ সিঁদুরে বিকেলে
খুঁজে খুঁজে হয়রান হবে –
আমার না থাকার সন্ধ্যা জুড়ে।

বেখেয়ালি ছানাপাখি-মনে
হয়তো হারিয়ে ফেলবে সন্ধ্যার মাঠ। মাঠের কিনারে
ফণীমনসার ঝোপ, জোনাকির আলো –
হারিয়ে ফেলবে হাতে ধরেও।

এই মাত্র কাল বিকেলে
কার সাথে যেন তুমি বালখিল্যে কথা বলছিলে –
আর আমি রাখতে দিলাম
আমাকে তোমার হাতে।

বেখেয়ালি মনে তুমি তাও হারালে!

উল্টো পায়ে হাঁটছে পাগল

উল্টো পায়ে হাঁটছে পাগল।
হাঁটছে পাগল
পথের বুকে ঠুকে-ঠুকে ঘঁষে দিয়ে পা-গোড়ালি।

বাতাস কেটে উড়ছে ধুলো ঘুর্ণি খেয়ে,
যাচ্ছে বয়ে নগর জুড়ে সে সব বাতাস।
চোখে মুখে ঝাপটা লেগে
কতো মানুষ -অন্ধ যেন – চোখ কচলায়।
নগ্ন পায়ে ডানে বাঁয়ে হাত-পা ছুঁড়ে
এক পৃথিবী ডলছে পাগল পায়ের তলায় ।

মুখোমুখি হেসে ওঠে
চাঁদ ও কুকুর,
পুকুর-জলে পড়ছে গলে কাল-মহাকাল।
হেসে ওঠে একলা পাগল –
মানুষ এতো পাগল কেন!

এই মুহূর্তে কেউ না কেউ
কোথাও তো পাচ্ছে না পথ,
কোথাও তো গাছের মতো হেলান দিয়ে
ভাবছে কিছু, কেউ না কেউ
কোথাও তো নড়ছে চড়ছে, হেসে উঠছে ‘মানুষ’ নিয়ে।

মানুষ মানে – হন্তদন্ত, দৃষ্টি ঘোলা, কানে ভোঁ ভোঁ।
মানুষ মানে – ওই যে দূরে সমুখ এবং সমুখে ছুট;
সামনে পড়লে নগর-খুড়ো হন্তদন্ত সরে পড়া
সালাম ঠুকে সালাম ঠুকে।
মানুষগুলো সমুখ চেনে,
খুব বিষন্ন, ক্লান্ত তারা কেবল বাঁচায়।
মানুষগুলো সমুখ চেনে,
দৃষ্টি থাকে পরের পাছায়।

মুক্তি পায় না, মুক্তি কোথায়!
আটকে পড়া জীবন হতে বিষন্নতা, ক্লেদ চেটে খায়।

তবুও কোথাও একটি পাগল
হেলান দিয়ে আকাশ লিখে।
উল্টো পায়ে হাঁটছে পাগল।
হাঁটছে পাগল পিছন দিকে।

হাসনাত নাগাসাকি