নতুন ব্যঞ্জন ও পুরনো কাসুন্দি

প্রিয় পাঠক,

আজ হেমন্তের প্রথম দিন। বর্ষা বিদায় আর শীতের বারতা নিয়ে আগমন হেমন্তের। হেমন্ত শস্যের ঋতু। নতুন ফসল ঘরে তোলার ঋতু। ফসল, প্রবল পরিশ্রমের ফল। ফসল, গভীর প্রেমের সমাপ্তিতে তৃপ্তি। ফসল, ভালো কিছুর প্রাপ্তি। এই হেমন্তে অকালবোধনের এই নবযাত্রায় আপনাদের ফসলপ্রাপ্তির শুভকামনা। শুভেচ্ছা নিরন্তর।

টানা পাঁচ বছরের প্রকাশবিরতির পর আবার ছোটার শুরু। নতুন রূপে, নতুন ধরণে। নতুন কিছু সঙ্গে করে। এই টানা বিরতিতে কোথাও মরচে ধরেছে, কোথাও শানিত হয়েছে চিন্তার রেখা। কিন্তু ছোটার গতি কিংবা উদ্দেশ্য সেই আগের মতো। একইভাবে শানিত। আমরা এখনো বিশ্বাস করি, অকালবোধনের সম্পাদনা পর্ষদ-লেখক-পাঠক সকলেই পত্রিকাটির কর্মী। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অকালবোধনের যাত্রা সচল থাকবে মঙ্গল উদ্দেশ্যে।

অনলাইনের এই প্রকাশযাত্রাকে আমরা বলছি অকালবোধনের দ্বিতীয় পর্যায়। এই পর্যায়ের যাত্রা সম্ভব হয়েছে মূলত কবিতাশ্রমের সাংগঠনিক সম্পাদক রাজু রায়হানের কল্যাণে। তারই আগ্রহে তারই হাতে গড়া অকালবোধনের অন্তর্জালিক জানালা। দ্বিতীয় পর্যায়ের এই যাত্রায় আমার সাথে সহযোগী সম্পাদক হিসেবে আছেন শ্রী দেবতাবাসসুম মেহযাবীন। এই তরুণ দুই সহকর্মীর প্রতি আমার ধন্যবাদ ও শুভকামনা। প্রিয় পাঠক, আপনাকে স্বাগতম।

এইসব যাত্রাবিরতির কারণ আমরা যেমন জানি, আপনারাও জানেন। তিন বছরে মুদ্রিত অকালবোধনের ১৮ টি সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছে। এই ১৮ টি সংখ্যা প্রকাশেও যাত্রাবিরতি ঘটেছে বারবার। পত্রিকা সচল থাকে মূলত বিজ্ঞাপনের কল্যাণে। আর সাহিত্য পত্রিকার জন্য বিজ্ঞাপন অতি জরুরি একটি বিষয়। কিন্তু আমাদের মনে হয়, আমাদের বিজ্ঞাপনদাতাগণ এটা বুঝতে পারেন না; কিংবা বুঝতে চান না। আমরা চাই, বিজ্ঞাপনদাতাগণ সাহিত্য পত্রিকাগুলোর জন্য বিজ্ঞাপন বরাদ্দ করুন। এবং গুরুত্ব সহকারেই তা করুন।

অর্থাভাবে মুদ্রিত পত্রিকা প্রকাশ করতে না পারার কারণে স্বপ্ল খরচে এই অনলাইন প্রকাশ। এটা ঠিক যে, পৃথিবীজুড়ে অনলাইনের ব্যবহার যেভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে আর অনলাইন যেভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে, আমাদের দেশে এখনো তা সেভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে না। অনলাইন নি্উজ পোর্টাল কিংবা ফেসবুক আমরা ব্যবহার করি মূলত আত্মপ্রচার করতে এবং গুজব ছড়াতে। কিন্তু একেবারেই যে ব্যবহৃত হচ্ছে না, তা কিন্তু নয়। মূলধারার পত্রিকা হিসেবে বেশ কয়েকটি অনলাইন পত্রিকা বেশ ভালো করছে। সকল মুদ্রিত দৈনিকেরই রয়েছে অনলাইন ভার্সন, এবং সেগুলোর পাঠক সংখ্যাও আশা জাগানিয়া। সাহিত্যের ক্ষেত্রেও এমন উদাহরণ আছে। চিন্তাসূত্র কিংবা পরষ্পরের নাম এক্ষেত্রে উল্লেখ করার মতো। সময়ের প্রয়োজনে সময়কে ধারণ করে অকালবোধন এগিয়ে যেতে চায়। অর্থাভাবে মুদ্রিত পত্রিকা প্রকাশ আপাতত স্থগিত থাকলেও, সময়ে তা আবার প্রকাশিত হবে। সাথে সাথে প্রকাশিত হতে থাকবে এর অনলাইন ভার্সন। প্রকাশিত লেখাগুলোর লিংক আমরা ফেসবুকে এবং অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করবো। এই আশায় শেয়ার করবো, আপনারা সেই লিংকগুলো ওপেন করবেন এবং অকালবোধন পড়বেন। যদিও অগ্রজ কবি সরদার ফারুকের বক্তব্যের সাথে একমত হয়ে এই আশংকা থেকে যায় যে, আলস্যবশত কেউ হয়তো এই লিংকগুলো খুলে দেখবে না। কিন্তু আমরা আশাবাদী। আমরা বিশ্বাস করি, আপনারা খুলবেন। আমাদের এবং প্রিয় ফারুক ভাইয়ের আশংকাকে মিথ্যা প্রমাণিত করে আপনার লিংকগুলো খুলে লেখাগুলো পড়বেন, মন্তব্য করবেন। প্রয়োজনে কঠোর সমালোচনাও করবেন।

সাহিত্যকর্ম কখনো সমাজ ও রাষ্ট্রের অন্যায়-অসঙ্গতিকে উপেক্ষা করতে পারে না। মুদ্রিত অকালবোধনে বারবার উচ্চারিত হয়েছে বিভিন্ন সময়ে সংঘটিত অন্যায়ের কথা। অকালবোধন তার যাত্রালগ্ন থেকেই সোচ্চার ছিল দেশদ্রোহীদের বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করার দাবিতে। বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ড সমগ্র দেশের মতো নাড়া দিয়েছিল টিম অকালবোধনকেও। আমরা সোচ্চার থেকেছি। আমরা আজও সোচ্চার। বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদ রাব্বীর হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং বিচারের মাধ্যমে অপরাধীদের ন্যায়সঙ্গত শাস্তির দাবি করছি।

সমাজ-রাষ্ট্র থেকে যাবতীয় অন্যায়-অমঙ্গল দূর হোক। আর এই কাজে আমরা সকলেই নিজ নিজ অবস্থান থেকে সততার সাথে কাজ করে যাই।

প্রিয় পাঠক, প্রতি মাসের প্রথম, তৃতীয় ও পঞ্চম (যদি থাকে) বৃহস্পতিবার শেষ প্রহরে প্রকাশিত হবে অকালবোধনের অনলাইন ভার্সন। সকলের জন্য শুভকামনা।

মঙ্গল হোক।

সৈয়দ এরশাদুল হক মিলন