মুহিন তপু’র কবিতা

অন্তর আত্মার সন্ধানে

চলে যাওয়া পথে কে ফিরে ফিরে চায়
কে লুকায় অই উলুবনে
কী উড়ে যায় লু হাওয়ায়!

কে ফিরে ফিরে চায়
দুয়ারে কড়া নেড়ে কে চলে যায়

কে হেটে যায় অদুরে
বাতাবিলেবুরর ঘ্রান

ভাটি পথে কে ফিরে ফিরে চায়

কে কাশফুল বনে পলক নাড়ায়
কে হায় মেঘে মেঘে বৃষ্টি সাজায়, পালক উড়ায়

কে ফিরে ফিরে চায়

কে থেকে থেকে ডাকে ইশারায়?
কি বেজে যায় নীরালায়
আনমনে গান গেয়ে কি খুজে যায়?

জানালায় উকি দিয়ে কে সে পালায়?

ঘোমটায় মুখ ডেকে কে হেটে যায়?

কে রেখে যায় ধুপের বাটি
মাটির পথে ধীরেধীরে কে হেটে যায়

কে বেজে যায় দিবানিশি
যেন দেয়ালের ঘড়ি

আয়নায় কি দেখা যায়

কে হেটে যায় নিভৃতে কাদা মাখা পায়

ফিরে ফিরে কে চেয়ে যায়
কি উড়ে যায়
শালিকের ডানায়

বিজন পথে কে হেটে যায়
বকুলের মালায় সুরেলা গলায়
কে গেয়ে যায়

কে উঠে আসে হৃদয়ের পাহাড়
পাথর সরে যায়
ঝাপসা হয়ে কি
ভেসে উঠে মনের পর্দায়?

কে নৌকার হাল ধরে ফিরে ফিরে চায়
জলের দ্বিখন্ডনে কে কেঁদে যায়
কে বেয়ে যায় থেকে থেকে দাঁড়!

কে প্রতিধ্বনি করে এখানে
অলৌকিক ছোঁয়া রেখে
যায়?

তারে খুজতে খুজতে আমার
বেলা কেটে যায়।

পরোয়ানা

খুলে দাও দরজাটা

দেয়ালের গা ঘেষে দাঁড়িয়েছে যে আগুন্তুক
তাকে প্রবেশ করতে দাও

প্রবেশ করতে দাও
শীতার্ত আত্মাটাকে
গ্রীষ্মকালীন তাপে জমা করে রেখেছো যে উম
ঢেলে দাও সব,তোমার ঘামের গন্ধ লেগে থাকা চাদর টা তাকে পড়িয়ে দাও
এবং তাকে বসতে দাও

মাটির গেলাসে তাকে পান করতে দাও
শুরা
যা মুলতঃ পান করার কথা ছিলো সৎকারের পর।
তুমিও আধেক খেতে পারো
এবং খুলে দাও নিজেকে
উল্লাস করো,কাঁদো
মাতাল হও।
তাকে চুমো খাও
চুমো খাও চুমো খাও।

এবার ড্রয়ার টা খুলে
ডায়েরি টা ওর হাতে তুলে দিতে পারো
এবং তাকে এবার বলে দিতে পারো
তোমার সাথে আমার আর কখনো দেখা হচ্ছেনা
না সুখে না শোকে
না পূণ্যে না পাপে

তুমি এবার আসতে পারো।

মুহিন তপু