সদ্য সমুজ্জ্বলের কবিতা

কপাল

ম্যানিব্যাগ ভর্তি পাথর
চৈত্রের দুপুরে সিগারেটের নেশা উঠতেই
একজন সিগারেট বিক্রেতার দিকে
একটি পাথর এগিয়ে দিই
বিক্রেতা পাথরটি ছুঁড়ে মারে আমার কপালে, এবং
কীসব বলতে বলতে চলে গেল।

অন্য একজন মানুষ– জল বিক্রেতা, তাকে ডেকে
তার হাতে ধরিয়ে দিই অন্য একটি পাথর– উজ্জ্বল, দামি;
সে আমাকে বলল পাষাণ, এবং সে আমার তৃষ্ণা না মিটিয়ে
সিগারেট বিক্রেতাকে অনুসরণ করল।

আরও সুন্দর একটি পাথর তুলে দিতে চাইলাম
প্রেমিকার হাতে, সে চুপ করে নেয় এবং বুকে তুলে রাখে,
এবং
সেও চলে যেতে যেতে বলল–
বুকে পাথরের চাষ করার ইচ্ছে ছিল অনেক দিন থেকে
আজ তুমি বীজ বপন করলে।

প্রলাপ

গোপন সিদ্ধান্তের অনুরূপ কোনো আলাপ থাকলেও
সে সুযোগ ধোঁয়ার মতো চোখ জ্বালিয়ে, মন ফুলিয়ে বিশ্রী আনন্দে
কাঁদায়– কেবল কাঁদায় ভাসানের জলস্রোত!

দয়িতা, তোমার কালো চুল অমাবস্যার সহচরী হলো যেদিন
সেদিন থেকেই স্বপ্নগুলো দিকভ্রান্ত।
পুরুষ হয়ে জন্মানো বোধ হয় বিশেষ প্রাপ্তি,
নারীর চোখে স্রোত আনা যায় যখন-তখন।
ঈশ্বরপ্রাপ্ত ক্ষমতার গলা টিপে দয়িতা তোমার চুলে জোছনা হবো
আগামী অমাবস্যায়। সে পর্যন্ত তুমি বেঁচে থাকো।

লোভ ও লাভের নেশায় বনমালির মতো আর বৃন্দাবন পোড়াবো না
নপুংশক হোক তবু রাধারা ঘর করুক স্বামীর বুকে জ্বালা পুষে।

সদ্য সমুজ্জ্বল