রুদ্রমঙ্গল

পৃথিবীতে এখন বসন্তকাল। চারদিকে খয়েরি মর্মর ভেঙে জেগে উঠছে কুশীলব। বন্যপ্রাণী থেকে ক্ষুদ্র কীট, সকলেই বহু বহু যুগ পর আবার অনুধাবন করার সুযোগ পেয়েছে যে পৃথিবী নামক এই গ্রহ তাদেরও আবাসস্থল! তারা ঝাঁকে ঝাঁকে দলে দলে বসন্তের গান গাইছে প্রকৃতির তালে তালে। অথচ মানুষ ছুঁতে পারছে না সেই রঙ। তাকে হাইবারনেশনে যেতে বাধ্য     করেছে প্রকৃতি। প্রতিটি মুহূর্ত মানুষ কাটাচ্ছে অজানা মৃত্যুর ভয়, অনিশ্চয়তা ও টিকে থাকার আশংকায়। এতকাল আত্মস্বার্থে মগ্ন মনুষ্যকুল প্রকৃতির আহাজারি-করুণ আকুতিকে অন্ধ-বধিরের মতো উপেক্ষা করে যে ধ্বংসযজ্ঞে লিপ্ত ছিল, আজ প্রকৃতি সেই অবজ্ঞা মানুষের দিকে ফিরিয়ে দিচ্ছে দ্বিগুণ আক্রোশে। ফলত কোভিড ১৯ এর মতো অদৃশ্য ভাইরাসের সংক্রমণে সমগ্র দুনিয়া জুড়েই মানুষ আজ ঘরবন্দী, লক্ষাধিক মানুষের মৃত্যুর ঢল সারা পৃথিবীকে করেছে স্তম্ভিত, দিশেহারা! একে একে ধ্বসে পড়ছে প্রবল পরাক্রমী রাষ্ট্রসমুহের পলকা ভিত! এতো ক্ষমতা! এতো বিত্ত! এতো এতো অস্ত্রের ঝনঝনানি! সবই আজ পরাজিত এই যুদ্ধে।  

এই পরিস্থিতিতে মনে প্রশ্ন জাগে, জ্ঞান-বিজ্ঞানে এতো দূর এগিয়েও কেন প্রবল পরাক্রমী মানুষকে আজ এমন অদ্ভূত পরিস্থিতির স্বীকার হতে হল? কী সেই প্রাণরক্ষাকারী অস্ত্র, যা এই অস্তিত্ব সংকট থেকে মানুষকে আজ বাঁচাতে পারে? প্রকৃতি মানুষের কাছে করোনার মাধ্যমে যে বার্তা নিয়ে এসেছে তা কি আমরা উপলব্ধ হয়ে নতুন পৃথিবী গড়ে তোলার সহযোদ্ধা হতে পারবো? যদি তা হয়, কেমন হতে পারে সে নতুন দুনিয়া ও তার বাস্তবতা?    

এই ভাবনাকে সামনে রেখে অকালবোধনের অনলাইন ভার্সনে বাংলা নববর্ষ বৈশাখ সংখ্যা রুদ্রমঙ্গল আজ প্রকাশিত হলো।

মন্দিরা এষ
নির্বাহী সম্পাদক