মানুষের মাংসের রেস্তোরাঁ । মোজাফ্‌ফর হোসেন

বড় বড় করে লাল অক্ষরে লেখা ‘এখানে মানুষের খাটি মাংস পাওয়া যায়’। হারুন আমাকে দেখিয়ে বলে, দেখ ‘খাঁটি’ শব্দে চন্দ্রবিন্দু বসায়নি।

 

বড় বড় করে লাল অক্ষরে লেখা ‘এখানে মানুষের খাটি মাংস পাওয়া যায়’। হারুন আমাকে দেখিয়ে বলে, দেখ ‘খাঁটি’ শব্দে চন্দ্রবিন্দু বসায়নি। আমি নিশ্চিত ভেজাল মাংস রাঁধে! হারুন অনেক বছর আগে একটা পত্রিকা অফিসে প্রুফ দেখার কাজ করত, সেই থেকে ভুল বানান দেখলে এভাবে একটা সিদ্ধান্তে চলে আসে। একবার ছোটবোনের বিয়ে ঠিক হলো, ছেলের নাম আবদুচ ছলিম। নামের বানান দেখার পর বিয়েটা ভেঙে দিল। বলল, যার নামের বানানে গণ্ডগোল, সে ছেলে সুবিধার হতেই পারে না।

মানুষের মাংসের চাহিদা বাড়ার পর রাজধানীর এই এলিট অঞ্চলে আরও কিছু হোটেলে মানুষের মাংস বিক্রি করা হয়, তাই কয়েকটি হোটেলের ব্যানারে খাঁটি মানুষের মাংস পাওয়া যায় বলে দাবি করা হয়েছে। কদিন আগে একটা দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল ‘মানুষের নামে কুকুকের মাংস!’ শিরোনামে। এরপর হোটেলগুলো বুঝেসুঝে নামকরণ করেছে। একটা হোটেলের নাম যেমন, ‘ওল্ড মানুষের মাংস রেস্তোরাঁ’। আরেকটার নাম ‘নিউ মানুষের মাংস রেস্টুরেন্ট’। বিপরীতে চোখে পড়ে ‘অরিজিনাল মানুষের মাংস ভোজ’ শীর্ষক হোটেলটি। কোনো এলাকায় একটি খাবার বিখ্যাত হয়ে গেলে অনেকে সেই বিখ্যাত খাবারের প্রকৃত মালিক বলে এভাবে দাবি তোলে।

মানুষের বলে কুকুরের মাংস খাইয়ে দেবে না-তো? হারুন বলে।

এই কারণেই তো হোটেলের নাম জেনে এসেছি। ওকে আস্বস্ত করি।

আমরা, মানে আমি আর হারুন ‘Meet Human Meat’ হোটেলে এসেছি বন্ধু ইমরোজের পরামর্শে। ইমরোজের বাড়ি এই এলাকায়, ও জানে সুস্বাদু মানুষের মাংস কোথায় পাওয়া যায়। নিজের এলাকা বলে নয়, ইমরোজ দেশের ঐতিহ্যবাহী খাবারগুলো কোন জেলায় কোনটা অথেনটিক বলে দিতে পারে। শুধু খাওয়ার জন্য কোনো মানুষের জন্ম হয় কিনা জানি না, ইমরোজের হয়েছে বলে আমরা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি। সকালেই ইমরোজকে ফোন দিই। ও জানায় ‘মিট হিউম্যান মিট’ খুব নাম করা না হলেও মানুষের মাংস রাঁধে ভালো। বিশেষ করে ফ্রাইটা দারুণ হয় এখানে। রেজালাটা ভালো করে ‘ওল্ড মানুষের মাংস রেস্তোরাঁ’। আমি রেজালা পছন্দ করলেও হারুন বলল ফ্রাই খাবে। বিলটা যেহেতু হারুনই দেবে, আমি আর না করতে পারলাম না।

আমরা ‘মিট হিউম্যান মিট’-এ এলাম। হোটেলে মালিক একজন সাবেক মন্ত্রী। দেয়ালে বড় করে তার ছবি টাঙানো। ছবিটার নিচের টেবিলে আমরা বসেছি। এদিকে আলো ও মানুষের চাপ, দুটোই কম। গল্প করতে করতে সময় নিয়ে খাওয়া যাবে। মানুষের মাংস দ্রুত খেলে নাকি স্বাদ পাওয়া যায় না। মুখের ভেতর অনেকক্ষণ রেখে গিলতে হয়। এটাও ইমরোজের বলা।

আমাদের সামনে মেন্যু নিয়ে আসে অল্পবয়সী এক ওয়েটার।

স্যার কি অর্ডার করবেন? ছেলেটি মেন্যুটা হাতে রেখেই জানতে চায়।

মানুষের মাংসের কি কি রেসিপি আছে তোমাদের? হারুন জিজ্ঞাসা করে।

দুপুরে ফ্রাই, রেজালা, ঝোল, বটি—এগুলো আছে। একটু সময় দিলে স্পেশাল খিচুড়ি ও বিরানি হবে। মাথার মাংস ও হাড়ের নেহারি খেতে চাইলে সকালে আসতে হবে। তেহারি ও কাচ্চি পাবেন রাতে। ছেলেটি বলে।

এখানকার স্পেশাল কোনটা? আমি জিজ্ঞাসা করি।

দুপুরের মেন্যুতে ফ্রাই অথবা ভুনা। তবে আজ রেজালাও ভালো হবে। শিশুর মাংস এসেছে। হাড়গুলো চিবিয়ে খেয়ে ফেলতে পারবেন। মুখে একদম বাধবে না। চর্বিওয়ালা গোশত পছন্দ করলে মোটাগোটা মেয়েমানুষের বুকের ও রানের মাংস আছে। ঝোলটা ভালো হয়েছে।

বয়স কেমন? হারুণ বলে।

আমার?

মোটাগোটা মেয়েটার কথা বললে? বুড়ো নাতো?

একদম না। ত্রিশ বছরের বেশি হবে না। খুব মোটা না, নাদুসনুদুস। যেমন ফর্সা, তেমন গড়ন। নায়িকাদের মতো লম্বা। রানে অনেক মাংস ছিল।

শুনে তো মুখে পানি চলে এলো। দাও। সঙ্গে ফ্রাই আর বাটার নান। হারুন ওরটা বলে।

আমাকে ঝোল মাংস দাও। সাথে কুচিকুচি করে পেঁয়াজ ও কাঁচা মরিচ। নারীশরীরের রানের মাংস শুনে মনে হলো স্বাদের হবে। না হলে একটা রেজালা নিয়ে নেব। সঙ্গে পরোটা। অল্প তেলে ভাজা। আমি বলি।

ছেলেটি অর্ডার নিয়ে চলে যায়।

মানুষের মাংসের আমদানি বেড়ে যাওয়ায় দাম কিছুটা কমেছে। সিরিয়া থেকে আসছে। সবই যুদ্ধাহত। দাম বেশি বলে সব হোটেলে রাখে না। সিরিয়ার মানুষ সৌদি আর আমেরিকাতে বেশি যায়। ইসরায়েল ফিলিস্তিনি শিশুদের মাংস থেকে এক ধরনের আচার তৈরি করে বাজারে ছেড়েছে, এত দাম যে কারো একার পক্ষে কিনে খাওয়া সম্ভব না। জাতিসংঘ থেকে শুরু করে বড় বড় এনজিওর মিটিংয়ে নাকি পরিবেশন করা হয়। শুনেছি ওদিকে ইয়েমেনে দুর্ভিক্ষের কারণে বাবা-মায়েরা শিশুদের বিক্রি করে দিচ্ছে। বেশিরভাগই হাব্বিসার, এই কারণে চাহিদা কম। চীন কিনে নিয়ে প্যাকেটজাত করে কম দামে বাজারে দিচ্ছে। বাংলাদেশে দেশি মানুষের মাংসের চাহিদা বেশি। দেশি মুরগির মতো দেশি মানুষের মাংসের স্বাদও নাকি জ্বিভে লেগে থাকার মতো। আজকাল আবার দেশি বলে অনেক হোটেলে রোহিঙ্গা চালিয়ে দিচ্ছে। এটা মনে করেই হারুন বোধহয় ম্যানেজারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। তিনি উঠে আসেন আমাদের টেবিলের কাছে।

আপনাদের এখানে সব দেশি তো? হারুন জানতে চায়।

নিশ্চিন্তে খেতে পারেন। তারপরও সন্দেহ জাগলে কিচেনের পেছনের স্টোরে কাটা মাথা আছে, দেখে আসতে পারেন। এখানে কোনো ভগিজগি নেই।

কোনো কোনো হোটেলে শুনেছি যাদের মাংস রান্না হয়েছে তাদের ছবি রাখা হয়। মানুষ দেখে অর্ডার করতে পারে? আমি শোনা কথার সত্যতা কতখানি জানতে চাই।

ঠিকই শুনেছেন। আমরাই এটা শুরু করেছিলাম। পরে বন্ধ করে ফেলতে হয়েছে।

কেন? ভালো সিস্টেম তো। যার মাংস খাচ্ছি তার চেহারাটা দেখে নিলাম। বন্ধ করলেন কেন?

একবার খুব ঝামেলা হয়েছিল। তারপর থেকে বন্ধ।

কী রকম? জানতে পারি?

এক কাস্টমার ক্যাটালগ দেখতে চাইলেন। আমরা দিলাম। সাধারণত কেউ না চাইলে আমরা দিতাম না। কেউ কেউ আছে পুরাতন সেন্টিমেন্টের, ছবি দেখলে খেতে পারেন না। আবেগ চলে আসে। তো লোকটি ক্যাটালগ দেখে চিৎকার শুরু করে দিলেন। ওখানে নাকি তার মেয়ের ছবি আছে। পরে আমাদের নামে মামলা করে দেয়। তার ধারণা আমরা মেয়েটিকে তুলে এনে জবাই করেছি মাংসের জন্য।

তারপর? আপনারা তাও করেন নাকি?

একসঙ্গে মেয়েটি দুটো প্রেম করত। প্রথম প্রেমিক খুন করে দালালদের কাছে বিক্রি করেছে। দালাল দিয়েছে আমাদের। আসল রহস্য উন্মোচন হয়ে গেলে আমাদের আর সমস্যা হয় নি। এরপর থেকে আমরা আর ছবি দেখাই না। আমাদের একটা সুনাম আছে, মানুষ বিশ্বাস থেকে আসে। একবার যে আসে, পরেরবার তাকে আসতে হয়।

কেন? কি এমন বিশেষত্ত্ব আপনাদের?

আমরা বাজার থেকে মরা মানুষ কিনি না। যেমন ধরুন গতকাল দেশে পনেরজন খুন হয়েছে, সড়ক দুর্ঘনায় মৃত্যু হয়েছে বিশজনের মতো, ধর্ষণের পর মেরে ফেলা হয়েছে তিনজনকে। গাছের সঙ্গে বেঁধে পিটিয়ে মারা হয়েছে এক শিশুকে। আমরা একটাও কিনিনি। কম দাম যেখানে দেখবেন, ওরা কেনে। আমাদের মাংস ফ্রেস।

তার মানে আপনারা তুলে এনে জবাই করান? নাকি তাজা মানুষ কিনতে পাওয়া যায়? হারুন প্রশ্ন করে।

 

মানুষের মাংসের কি কি রেসিপি আছে তোমাদের?

 

তুলে আনার মতো নোংরা কাজ আমরা করি না। আর কিনতে পাওয়া গেলেও সেগুলো অধিকাংশ কেমিক্যাল দেওয়া। জীবন্ত হলেও ভেজাল। আমাদের নিজস্ব ফার্ম আছে। পথশিশুদের আমরা অল্প দামে কিনে নিই ওদের বাবা-মা অথবা এলাকাভিত্তিক বড়ভাইদের কাছ থেকে। দেখেন-না ফুটপাত কেমন ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে! আরামে হাঁটতে পারছেন। কিনে ওদের যত্ন করে পালা হয়। অনেক অবিবাহিত মা জারজ সন্তানদের আমাদের কাছে বিক্রি করে যায়। ভালো দাম পায় বলে আজকাল আর কেউ গর্ভপাত ঘটায় না। এই কারণে দেখবেন নবজাতক হত্যাটাও কমেছে। ম্যানেজার বলে।

খুব ভালো। নবজাতক কিংবা ভ্রুণ হত্যার ঘটনা এতো বেড়ে যাচ্ছিল যে সহ্য করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। একটা উপায় বের হয়েছে তাহলে। আমি বলি।

আমার মনে হয় প্রসূতি মায়েদের জন্যও ভালো হয়েছে। দেহব্যবসার চেয়ে এই ব্যবসাটা ভালো। পথের মেয়েরা সম্মানের সাথে করতে পারবে। হারুন বলে।

আয়ও বেশি হয়। ম্যানেজার যোগ করে।

এত দাম দিয়ে রোজ খায় কারা? আমি জানতে চাই।

টাকাওয়ালা ভদ্রলোক ও ব্যবসায়ীরা। বিশেষ বিশেষ জায়গা থেকে অর্ডার আসে। সৌখিন মধ্যবিত্তরাও আসে, জন্মদিনে কিংবা চাকরির প্রমোশন হলে। কেউ কেউ বসকে খুশি করতে পার্সেল করে।

ম্যানেজার সানন্দে আমাদের প্রতিটা প্রশ্নের উত্তর দিয়ে যান। বিরক্ত হচ্ছেন বলে মনে হয় না। এই কারণে আমরা আরও কিছুক্ষণ কথা চালিয়ে যেতে পারি। এর মধ্যে অর্ডার নেওয়া ছেলেটা টেবিলে স্যুপ রেখে যায়।

আমরা তো স্যুপ অর্ডার করিনি? আমি বলি।

এটা কম্প্লিমেন্টরি। ফিঙ্গার স্যুপ। খান, ভুলতে পারবেন না।

শুনেই আমার জিভে জল চলে আসে। এমনিতেই অনেকটা পথ পাড়ি দিয়ে আমরা ক্ষুধার্ত। আমি স্যুপের একটা বাটি নিজের দিতে টেনে নিই। পাতলা ডালের রঙ, চামচ দিয়ে নাড়তেই চিংড়ির মতো কুচি কুচি করে কাটা আঙুল ভেসে ওঠে। একটা তুলে মুখে দিই। অমৃত। ভেতরের হাড়টা দাঁতের নিচে পড়ে মটমট করে। চিংড়ির চেয়ে কয়েকগুণ বেশি স্বাদ। বাচ্চার আঙুল নাকি? আমি জিজ্ঞাসা করি।

আজ একটা পার্টির অর্ডারে দুটো পথশিশু জবাই হয়েছে। এই শহর থেকে দুজন অনাগত ভিক্ষুক অথবা পকেটমার কমে গেল। ম্যানেজার বলে।

বাহ! দারুণ। এই ব্যবসাটা দশ বছর আগে চালু হলে আমার আইফোনটা হারাতে হত না। ওতো দাম দিয়ে কিনে ব্যবহারই করতে পারলাম না। হারুন শুনে খুশি হয়ে বলে।

বিষয়টা ভালো। জনসংখ্যাও কমছে। অপরাধীর পাশাপাশি আগামীতে আর বেকার থাকবে না। আমি বলি।

তবে চাহিদা যেহারে বাড়ছে তাতে সংকট তৈরি হতে পারে। হারুন বলে।

ধূর, গরীব মানুষের অভাব আছে নাকি! যুদ্ধ লেগেই আছে কোথাও না কোথাও। খুন-খারাবি গুম-অপহরণ কমছে না, বাড়ছে। এত তাড়াতাড়ি সংকট হবে না। আমি জবাব দিই।

চাহিদার কথা মাথায় রেখে আরও ফার্ম তৈরি হচ্ছে। শহরে যারা পথে পথে কুকুরের মতো পড়ে থাকে, সন্তান হলে জানে না পরদিন পাশে পাবে কিনা, কিংবা ঝামেলা এড়াতে নিজেরাই ফেলে দেয় কোনো ডাস্টবিনে, তাদের আমরা ফার্মে নিচ্ছি। ওখানে ওরা আরামে থাকবে খাবে আর গরু-ছাগলের মতো জন্ম দেবে। ম্যানেজার বলে।

এইটা ভালো হয়েছে। এতদিনে এই কীটপতঙ্গের মতো মানুষগুলো সমাজের কাজে লাগছে। চোর-বাটপারি-মাদক চোরাচালান এসব বন্ধ হওয়া এখন সময়ের ব্যাপার। সমাজে এবার সত্যিকারের শান্তি ফিরে আসবে। মানুষের ভেতর নীতিনৈতিকতার বিষয়টি তো উঠেই যাচ্ছিল। হারুন খুশি হয়ে বলে।

ম্যানেজার হাসতে হাসতে উঠে যান তার আসনের দিকে।

আমরা স্যুপ শেষ করে অপেক্ষা করি।

বিশ্বের নব্বইভাগ মানুষ পশুর মতো খেটে মরছে, আর দশ ভাগ মানুষ কেমন ভোগ করছে দেখেছিস? সমাজতন্ত্র-গণতন্ত্র দিয়ে কিছু হবে না। ক্ষমতার রাজনীতিকে আমরা দোষ দিই, আসল অপরাধী হলো শিল্পপতিরা। না, অপরাধী আমরা, শ্যালা মধ্যবিত্তরা। হারুন বলে। ছাত্ররাজনীতি করত, সুযোগ পেলেই রাজনীতির কথা শুরু করে দেয়। আমি শিল্পীমানুষ, ওর কোথায় তেমন আগ্রহ খুঁজে পাই না। সমাজ পরিবর্তন করা এখন শিল্পীদের কাজ না। শিল্পবিমুখ সমাজে সে সুযোগ আর নেই। এ ধরনের কথা আমি হারুনকে বলি। ও আমার সঙ্গে একমত হতে পারে না। আমরা যখন বৃহত্তর সমাজ ও বঞ্চিত মানুষের অবস্থার পরিবর্তন নিয়ে সিরিয়াস আড্ডার ভেতরে চলে যাই, তখনই আমাদের টেবিলে মানুষের মাংসের রেসিপি আসে। খেতে খেতে আমরা আলাপের আরও গভীরে চলে যাই।

স্যার একটু আস্তে কথা বলবেন, পাশের টেবিলে সমস্যা হচ্ছে। ওয়েটার এসে বলে। তাকিয়ে দেখি আমাদের সামনের টেবিলে কয়েকজন দেশি বিদেশি মিলে মিটিং সারছে। চোখে পড়ে এক ভদ্রলোকের হাতে একটা ফাইলে লেখা, হিউম্যান রাইটস ইন স্লামস।

মিট হিউম্যান মিট রেস্তোরাঁয় এভাবেই নাকি রোজ রোজ সমাজ বদলের তর্কে বসে বিত্তবান মানুষেরা, প্রান্তিক মানুষের অধিকার নিয়ে মিটিং করে দেশি বিদেশি সংগঠনগুলো। বিল দেওয়ার সময় ম্যানেজার হাসতে হাসতে আমাদের বলে, আবার আসবেন স্যার! আমাদের মানুষের মাংসে কোনো ভেজাল নেই।


মোজাফ্‌ফর হোসেন

 

কথাশিল্পী-প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক মোজাফ্ফর হোসেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগ থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে সাংবাদিকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন। বর্তমানে বাংলা একাডেমির অনুবাদ উপবিভাগে কর্মরত। প্রধানত ছোটগল্পকার। পাশাপাশি সাহিত্য সমালোচক ও অনুবাদক হিসেবেও তাঁর পরিচিতি আছে। অতীত একটা ভিনদেশ গল্পগ্রন্থের জন্য তিনি এক্সিম ব্যাংক-অন্যদিন হুমায়ূন আহমেদ কথাসাহিত্য পুরস্কার এবং স্বাধীন দেশের পরাধীন মানুষেরা গল্পগ্রন্থের জন্য আবুল হাসান সাহিত্য পুরস্কার অর্জন করেছেন। এছাড়াও ছোটগল্পের জন্য তিনি অরণি সাহিত্য পুরস্কার ও বৈশাখি টেলিভিশন পুরস্কারে ভূষিত হন। ছোটগল্প নিয়ে তাঁর পাঠে বিশ্লেষণে বিশ্বগল্প বইটি বাংলা সাহিত্যে অনন্য সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ই-মেইল : mjafor@gmail.com