কিমের দুটি সিনেমা আমি যেভাবে দেখেছি

থ্রি আইরন ছবির ভাষ্য ও অবভাস

কোন শিল্পই ঠিক মাইক্রোস্কোপের নিচে রেখে বিবেচনার বিষয় নয়। আমরা যখন সিনেমা আলোচনাই করব তখন সিনেমাকেই উদাহরণ হিসেবে নিতে পারি। প্রথম কথা হল আমরা যা দেখি এবং পর্দায় যা দেখায় তা কী আসলেই সিনেমার নিজের বয়ান কিনা? কোন কোন দার্শনিক বলেন, বস্তুকে সে যা, সেভাবে জানা যায় না। এখন সিনেমাকে যদি বস্তু হিসেবে নেই তাইলে সিনেমায় পরিচালক যা বলতে চান তার সাথে আমরা যা দেখি তার কোন মিল নাও থাকতে পারে। এমনও তো হইতে পারে যে, পরিচালক যা বলতে চান খোদ সিনেমাই তা বলতে পারে নাই। অথবা পরিচালক আর সিনেমা মিলে যা বলে থাকে, দুইটার সাথে আমার পাঠের কোন মিল নাও থাকতে পারে।

কিমের সিনেমা নিয়া যখন কিছু বলতে চাই তখন কিম-কি-দুক নিজেও দেখি ঠিক সরাসরি কিছু বলতে চান না। পর্দায় আমরা যা দেখি, সেই উপস্থাপিত বিষয় ও আমরা ব্যক্তি হিসেবে যা দেখি তার মধ্যে তৈরি হয় বিশেষ এক দ্বন্দ্ব। মাথার মধ্যে চাপ সৃষ্টি হয়। দ্বন্দ্ব এবং চাপের ভেতর দিয়েই হয়তো এক সময় আমরা সিনেমাটি শেষ করি। অথবা এই সিনেমা আর কখনোই শেষ না হয়ে একটা চলমান অবস্থা মাথার ভিতর জারি রাখে।

তবে প্রশ্ন হলো কেন কিম এভাবে সিনেমা দেখাতে চান? হয়তো এই সময়ে এসে যখন মনস্তাত্ত্বিক সঙ্কীর্ণতা, স্খলন ও পীড়ন, যা কখনো সরাসরি দেখানো সম্ভব হয় না, সেগুলোকেই কিম হয়তো এভাবে পর্দায় তুলে আনতে চান। আর আমাদের নিজেদের ভিতর লুকিয়ে থাকা এই সমস্ত সংকটগুলো ব্যক্তি ‘আমি’কে এক ধরনের অস্তিত্বহীতার দিকে ঠেলে দেয়। এই ‘আমি’ অনেকটা সার্ত্রের আমির মতো। উত্তরাধুনিক দুনিয়ার এই সময়ে ব্যক্তির অস্তিত্বই সবকিছুর মানদণ্ড হিসেবে দেখেছেন সার্ত্র। আর বাকি জগতটাকে আপেক্ষিক অর্থাৎ ব্যক্তির সাপেক্ষে দেখার এই প্রক্রিয়ার সাথেই যেন আমাদেরকেও যুক্ত করতে চান কিম। আর আমিত্বের সেই সংকটাপন্ন অবস্থা ব্যাখ্যার জন্য নতুন ভাষা নির্মাণে নামেন তিনি।

২.

তেমনি একটি ছবি থ্রি-আইরন। যেখানে স্বাভাবিক গতিতে চলমান একটি সিনেমা শেষ হওয়ার পর হতভম্ব হয়ে বসে থাকতে হয় আরও অনেক্ষণ। পরিচালক কী বলতে চেয়েছেন আর আমরা কী বুঝেছি সেসব ছাড়িয়ে দীর্ঘ এক বিহ্বলতা গ্রাস করে আমাদের।

এ এক উড়নচণ্ডী যুবক তা-সোক ও স্বামী নির্যাতিত গৃহবধূ সু-হুয়ার গল্প। তা-সোক যার কোন স্থায়ী ঠিকানা নেই, শুধু একটি মোটরবাইকই সঙ্গী। অন্যের বাড়িতে রাত কাটানো তার কাছে প্রয়োজনীয়তার চেয়ে মনে হয় স্বভাবগত প্রবণতা এবং আকাঙ্ক্ষার অধিক প্রকাশ। এই প্রক্রিয়ায় এক বাড়িতে আশ্রয় নিতে গিয়ে তার পরিচয় হয় স্বামী দ্বারা নির্যাতিত সু-হুয়ার সাথে। কিমের সিনেমার স্বভাবগত বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী চোখের কথায় নির্বাক এই তরুণ-তরুণীর মধ্যে গড়ে ওঠে এক ধরনের মেটাফিজিক্যাল সম্পর্ক। এই সম্পর্ককে আমরা প্রথমে নিপীড়িত অবস্থা থেকে এক নারীকে উদ্ধারের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখলেও, পরে তাকে প্রেম বলে সনাক্ত করতে একটুও সমস্যা হয় না। সম্পর্ক তৈরির ক্ষেত্রে শব্দ যে নিছক বাহ্য উপাদান এই অতিকথনের সময়েও কিম তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেন। এইসব ঘনঘটার এক পর্যায়ে মেয়েটিকে বাগিয়ে নেয় সে। তখন সেও সঙ্গী হয় ছেলেটির পলায়নপর এমন জীবনের সাথে। তবে এই লুকোচুরি খেলা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় না। এক বাসায় রাত কাটাতে গিয়ে খুনের অভিযোগে পুলিশের কাছে ধরা পড়ে তারা।

মেয়েটিকে ছেড়ে দিলেও গলফ বল দ্বারা পুলিশকে আহত করার দায়ে তা-সোককে পুলিশ জেলে পাঠিয়ে দেয়। জেলে পুলিশের সাথে এক অধিবিদ্যক খেলায় মেতে উঠে সে। অদৃশ্য হওয়ার কৌশল রপ্ত করতে গিয়ে পুলিশকে রীতিমত ত্যক্ত করে ছাড়ে সে।

এক সময় অদৃশ্য হওয়ার এই কৌশল সু-হুয়া ও তার স্বামীর ওপর প্রয়োগ করে সে। এবং স্বামীর সামনেই মেয়েটির সাথে চলে তার এক ধরনের মনোদৈহিক সম্পর্ক। এখানেই সিনেমাটি শেষ হতে পারত। শেষ হয়েছেও। তবে… এখানে একটা পজ দিয়ে আমরা আরো কিছু ব্যাপার দেখে নিতে পারি।

৩.

ছবি দেখতে দেখতে কিছু দৃশ্যে চমকে উঠতে হয়। দিনের বেলায় হঠাৎ মেয়েটি এক বাড়িতে উপস্থিত হয়ে সোফাতে ঘুমিয়ে পড়ে। এই ঘটনায় বাড়ির মালিক অবাক হলেও কিছু বলতে পারে না। অন্য একদিন মেয়েটি একইভাবে সে বাড়িতে আসলে তারা মেয়েটির অস্তিত্ব টের পেলেও কিছু দেখতে পায় না। যেন সবকিছু মায়ার বাক্সে বন্দি।

কিমের উপর বৌদ্ধ দর্শনের প্রভাব সম্পর্কে আমরা আগে থেকেই জানি। এছাড়া সুফি দর্শনেও এরকম ঘটনার বিবরণ পাওয়া যায়। কারাগারে অপেক্ষমান মনসুর আল হাল্লাজ এভাবে পরপর তিনদিন, একদিন তিনিই কারাগার থেকে নাই হয়ে যান। আরেকদিন কারাগার নাই হয়ে যায়। শেষদিন দুজনেই নাই হয়ে যায়। এই ঘটনার সাথে কিমের উপরোক্ত দৃশ্যটার মিল বেশ লক্ষণীয় ।
আরেকটি ব্যাপার হল পুরো ছবিতে গলফ বলের ব্যবহার। সিনেমার সাথে প্যারালালি গলফ বলের ব্যবহার ক্রমশ তীব্র হয়ে ওঠে। প্রথম দিকের একটি দৃশ্যে আমরা দেখি ছেলেটির সাথে অদৃশ্যভাবে বল ছুঁড়ে দেওয়ার এক খেলায় মেতে উঠে মেয়েটি। ছেলেটি লোকটিকে আহত করে গলফ বল দিয়ে। আবার লোকটি গলফ বল দিয়েই প্রতিশোধ গ্রহণ করে। এছাড়া আরও কিছু দৃশ্যে অনির্ণেয় রূপক হিসেবে উঠে আসে গলফ বল।

৪.

এবার যেখানে আমরা পজ দিয়ে এসেছিলাম সেখানে ফিরে যাওয়া যাক। সিনেমা আসলে শেষ। কিন্তু সেই শেষ হয়ে হলো না শেষের মতো। সিনেমার শেষ মুহূর্তে কিম ছোট্ট একটা ধাক্কা দিয়ে যান।

শেষ হতে হতে স্ক্রলে একটি লাইন ভেসে ওঠে। হয়তো এই লাইনটির জন্য পুরো রিভিউটুকু লিখতে বসা। লাইনটি হলো ÔIt is hard to tell that the world we live in is either a reality or a dreamÕ| যখন এই লাইনগুলো স্ক্রলে আসে, শেষ সেই দৃশ্যটিতে আমরা দেখি ছেলেটি ও মেয়েটি দাঁড়িয়ে আছে একটি ওজন মাপার যন্ত্রের উপর, যেখানে দুজনের মিলিত ওজন শূন্য। এই দৃশ্য দেখার পর খানিকটা চুপ মেরে যেতে হয়। কী বুঝাতে চেয়েছেন কিম? এতক্ষণ আমরা যা দেখলাম তা কী মেয়েটির স্বপ্নে ঘটে যাওয়া কিছু? নাকি আমাদের সিনেমা দেখাটা একটা মায়া। সিনেমা দেখা শুধু কেন? পুরো জগতকে মায়া বলে তুলোধুনো করেছেন পাশ্চাত্য ও প্রাচ্যের বিভিন্ন দর্শন ও দার্শনিক। এই ব্যাপারে গোল্ডফিস থিওরির কথাও আমরা অনেকেই জানি। পাশ্চাত্যের অনেক দেশে গোলাকার পাত্রে গোল্ডফিস রাখা নিষেধ। কারণ, এই পাত্রের মধ্যে থেকে গোল্ডফিস বাইরের জগতকে সঠিকভাবে দেখে না। একইভাবে দার্শনিক কান্ট বা বার্ট্রান্ড রাসেল একই রকম দৃষ্টিভঙ্গীর দিকে ইঙ্গিত করেছেন। আমরা জগতকে যেভাবে দেখি জগত মোটেই সেরূপ নয়। অথবা গোল্ডফিসের মত আমরাও জগতকে হয়তো কোন গোলাকার পাত্রের ভিতর থেকে দেখি কিনা? প্রাচীন ভারতের বৌদ্ধবাদ প্রভাবিত জাপানি জেন গল্পের মধ্যেও আমরা দেখি জগতকে স্বপ্নের আলোকে চিন্তা করার ব্যাপারগুলো। এক তাওগুরু স্বপ্নে দেখেন তিনি প্রজাপতি হয়ে গেছেন। এরপর তিনি স্বপ্ন থেকে যখন জাগেন তখন ভাবতে থাকেন তিনি একজন মানুষ যে প্রজাপতি হওয়ার স্বপ্ন দেখে নাকি তিনি একটি প্রজাপতি যে মানুষ হওয়ার স্বপ্ন দেখে? এইসব প্রশ্ন আমাদের অস্তিত্ব সম্পর্কে ধারণাকে স্থির থাকতে দেয় না। আমরা নিজেদের অস্তিত্ব নিয়ে সংকটে পড়ে যাই। কি সেই সংকট? নিজেরাও ঠিক বুঝে উঠতে পারি না। কিন্তু বারবার মনে হতে থাকে আমি যা চাই তা আসলেই আমি চাই কি না? না আমি অন্য কারো আকাঙ্ক্ষাকে নিজের জন্য পেশ করছি। সেরকম কিছু কী আসলেই কিম দেখাতে চেয়েছেন নাকি বৌদ্ধ দর্শনের নির্বাণের ধারণাই তার চিন্তায় কাজ করেছে অথবা এরকম কিছুই তিনি দেখাতে চাননি। হয়তো আমি নিজেই সিনেমাটিকে এভাবে দেখতে চেয়েছি? এসব উত্তর অযোগ্য প্রশ্ন ও এক ধরনের নিরাপত্তাহীনতা সেইসাথে মায়া, স্বপ্ন এবং বাস্তবতার ভজঘটের মাঝেই আমাদের সিনেমাটি শেষ করতে হয়।

 

একটি তীর কিংবা যন্ত্রণার ভাষ্য

মানুষ, অস্তিত্ব, বেদনা, নির্বাণ, প্রেম, সংগীত, সুন্দর-সবকিছু মিলিয়ে একটি তীরের যন্ত্রণা। তীরটি ক্রমশ ঢুকে পড়ছে আমাদের শরীরের ভিতরে আর আমরা ডুবে যাচ্ছি এক নান্দনিক সমুদ্রের বুকের মধ্যে। মধ্য সমুদ্রের পাঁজর ঠিকরে বেরিয়ে আসছে এক রহস্যময় সুর। হয়তো মানুষ বেঁচে থাকতে চায় সে সুরের উচ্চতা আকঁড়ে। আমি জানি না আসলে ঠিক কি বলতে চাচ্ছি! অনুভূতি বরাবরের মত বিক্ষিপ্ত ও অসংজ্ঞায়িত। আমি বলছি কিম কি দুকের আরেকটি সিনেমার কথা। আপনি অবশ্য তার যেকোন সিনেমাকে এখানে বসাতে পারেন। অনুভুতি সবসময় একই। এক বোবা যন্ত্রণা যেনো গলা চেপে ধরে। অনস্তিত্বের আশংকা আক্রান্ত করে রাখে বোধের সমস্ত স্তরকে। আমি এখানে ‘বো’ সিনেমাটিকে কেন্দ্র করে কিছু যন্ত্রণা কিংবা ভালোবাসা অথবা নৈঃশব্দ্যের কথা বলব। কাহিনীর বয়ান এখানে মূখ্য নয়। সিনেমার কাহিনী বিক্ষিপ্ত ও অপ্রাঙ্গিকতায় আসবে। আবার নাও আসতে পারে। শেষ পর্যন্ত দেখা গেলো সিনেমা সম্পর্কে কোন কথাই বলা হয় নাই। আসলে কিমের সিনেমা এমনই। এখানে থাকে কিছু আত্মকথন এবং আত্মক্ষরণ। দেখা শেষ হওয়ার পরে সিনেমা কি ছিলো, চরিত্র কেমন, অভিনয় গুণ এসব আর কোন মূল্যই রাখে না। এক ধরনের ‘নেতি’ শুধু বুকের মাঝখানটাই চেপে বসে। অন্ধকারের আলোটুকুই হয় শেষ ভরসা।

কিমের বেশিরভাগ সিনেমা মূলত সাধারণত সিনেমা নিয়ে যেসব ডিসকোর্স প্রচলিত আছে যেমন সিনেমা সধারণ মানুষের কথা বলে, সমাজবাস্তবতার রিপ্রেজেন্টশন করে, সেসব মোটা মোটা ডিসকোর্সের বাইরে গিয়ে কথা বলে। আসলে কি কথা বলে? কিমের সিনেমা আসলে কোন কথাই বলে না। কিছুই বলে না। সমাজ? তার সিনেমাই কোন সমাজই নাই, কোন কালেই যেনো ছিল না। বেশ কয়েকটি সিনেমার প্লট সমুদ্র বা নদীর মাঝে। যেখানে ব্যক্তিই সমাজ। যেমন বো এর সে বৃদ্ধ যে কিনা ৬ বছরের মেয়েকে তুলে এনে গড়ে তুলেছে তার ব্যক্তিগত এক সমাজ। যাকে সে বিয়ে করবে মেয়েটির ১৭ বছর পূর্ণ হলে। এখানে আমাদের প্রাত্যাহিক সামাজিক জীবন ব্যবস্থার কিছুই ফুটে উঠে না। আর যেসব সিনেমায় শহরের দেখা মেলে চরিত্রগুলো সেই সমুদ্রেরই চরিত্র। মনে হয় তারা ভুল করে শহরে এসে পড়েছে। অস্তিত্বের নিদারুণ সংকট তাদের চারপাশ থেকে চেপে ধরে। আমরা শেষ পর্যন্ত গিয়ে এমনও দেখি যে বলা হচ্ছে আমরা যে পৃথিবীতে বাস করি তা আদৌ সত্য কিনা! দর্শন-সিনেমা-কবিতা-বয়ান যেনো একই কাতারে এসে হাজির হয়। আমরা সেসব সিনেমা নিয়ে বড্ড বিপদে পড়ে যায়। কি করব টাইপ বিপদ! নেতির এতো চাপ আমাদের অসহ্য ঠেকে। আর তখন কোথা হতে ভগবান বুদ্ধ এসে হাজির হয়। আগেই বলেছিলাম বুদ্ধ দর্শনের প্রভাব কিমের সিনেমাকে বরাবর প্রভাবিত করেছে। নির্বাণের আহ্বান চরিত্রগুলোকে শূণ্যগর্ভে নিক্ষেপ সেখানে তাদের সাথে আমরাও গিয়ে পড়ি। কোন উদ্ধারকর্তা নেই, উপায়হীন জনশূন্য এক জীবন।

কিমের চরিত্রগুলো বড্ডবেশি নির্বাক। তারা কোন কথাই বলে না। মূলত ভাষিক সমাজের বিরুদ্ধে কিমের এ অবস্থান ভাষার যে রাজনীতি প্রচলিত আছে এবং মানুুষের অস্তিত্বের সংকটের পিছনে ভাষার ডিসকোর্স যে নিরব অস্ত্র হিসেবে প্রতিনিয়ত এক ধরনের যুদ্ধ জারি রাখে তাকেই কিম প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায়। রিপ্রেজেন্টশনের অন্যতম মাধ্যম ভাষাকে কিম এক ধাক্কায় দূরে সরিয়ে দেয় যেনো ভাষা একটি অমানবিক বাহন। ভাষাময় চরিত্রগুলো তার সিনেমায় বড় হৃদয়হীন ও খুনে।

উত্তরাধুনিক দৃষ্টিভঙ্গীর সাথে তাল মিলিয়ে কিম ভাষার অধিবিদ্যার বিরুদ্ধে সংগ্রামে আমাদেরও নামিয়ে দেয়। এ আরেক বিপদ! আমাদের তো উপায় নেই কথা বলা ছাড়া। কিন্তু কিম আমাদের ঠেলে দিতে চান নৈঃশব্দ্যের দিকে। এসব অর্ন্তদ্বন্দ্বে মধ্যেই হয়তো আমাদের সিনেমা শেষ করতে হয়। অথবা এই সিনেমা কখনো শেষ হবার নয়। এটা তাড়না, প্রবনতা, ঘৃণা এবং ভালোবাসার মধ্যে ঘাপটি মেরে বসে থাকে। প্রয়োজনের সময় উঁকি দিয়ে জানান দেয় তার অস্তিত্ব।

কিমের সিনেমা দেখতে দেখতে আমাদের মনে পড়ে কাফকা কিংবা জীবনান্দকে। গ্রেগর সামসা, জোসেফকে আমাদের নিয়ে যাবে লাশকাটা ঘরে। সেখানে হয়তো আমাদের বিনাশের সাক্ষী হয়ে থাকে ভগবান বুদ্ধ। আমি বোধহয় বো সিনেমাটিকে নিয়ে বলতে বসেছি। আসলে কি আসে যায় বো হোক কিংবা আইল। কিমের সিনেমার কাছে আত্মসমর্পণে নাম কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ই না। কোন একটি নাম বসিয়ে পড়ে নিলেই হয় তেমন কোন পার্থক্য হবে না। সংকট ও সংশয় জারি থাকে মধ্য বুকে গেথেঁ যাওয়া তীর বরাবর। হয়তো আরেকটু বামে গিয়ে গাঁথতে পারতো।


লেখক :

হাসনাত শোয়েব


 

error: Content is protected !!