বোধন : ইরফান খান

২০০৬ সালে মুক্তি পাওয়া “The Namesake” সিনেমাটি দেখার পর ভারতীয় সিনেমার সবচেয়ে মেধাবী অভিনেত্রীদের একজন শর্মিলা ঠাকুর ইরফান খানকে একটি মেসেজ করেন। মেসেজটি ছিলো এরকম-

“আমার পক্ষ থেকে তোমার মা-বাবাকে ধন্যবাদ জানিয়ো, কারণ তারা তোমার মতো একজন অভিনেতাকে জন্ম দিয়েছেন”।

মাত্র একটা সিনেমায় অভিনয় দিয়ে কাউকে এতটা প্রভাবিত করতে পারার সক্ষমতা ভারতীয় অভিনেতাদের মধ্যে কেবল ইরফান খানেরই ছিলো। তাও শর্মিলা ঠাকুরের মতো একজন মানুষকে।

১৯৬৭ সালের ৭ জানুয়ারি রাজস্থানের জয়পুরের এক মুসলিম পাঠান পরিবারে জন্মেছিলেন সাহেবজাদা ইরফান আলী খান। তার পিতা জায়গীরদার খান ছিলেন একজন টায়ার ব্যবসায়ি। মুসলিম পাঠান পরিবারে জন্ম নেওয়া সত্ত্বেও শৈশবকাল থেকেই ইরফান খান নিরামিষভোজি ছিলেন। জবাই করা পশুর মাংসে তার তীব্র আপত্তি ছিল। এমন আচরণের জন্য তাঁর বাবা প্রায়ই তাঁকে নিয়ে কৌতুক করতেন- ‘ইশ্বর সম্ভবত ভুল করে পাঠান পরিবারে এক পন্ডিতের জন্ম দিয়ে ফেলেছেন’। পড়াশুনায় এবং খেলাধুলায় সমান তালে পারদর্শী ছিলেন ইরফান খান শৈশবে। বড় হয়ে ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন ছিলো তাঁর। মজার ব্যাপার হলো, ছোটবেলা থেকেই ইরফান খান লাজুক স্বভাবের ছিলেন। এজন্য সমবয়সী বাচ্চাদের সাথেও তেমন একটা মিশতেন না। মাত্র ৭ বছর বয়সে ঘরের ছাদ থেকে পড়ে তাঁর হাত বাজেভাবে ভেঙে যায়। তাঁর এই ভাঙা হাত পুরোপুরি ঠিক হতে প্রায় দুই বছর সময় লেগেছিল। এই দুইটা বছরই ইরফানে খানের জীবনে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে।

স্কুলের পড়াশুনা শেষ করে তিনি কিছুদিন বাবার সাথে ব্যবসায় মন দেন। কিন্তু রোজ রোজ একই কাজ, সারাদিন খদ্দেরের জন্য বসে বসে অপেক্ষা করা এসব কাজ তাঁর জন্য ছিল না। কারণ ইরফান একঘেয়েমি একদমই পছন্দ করতেন না। তাই তিনি আবার পড়াশুনা করবেন বলে মনস্থির করেন। তাঁর বাবারও এতে সম্মতি ছিলো। ব্যবসা ছেড়ে আর্টসে গ্র্যাজুয়েশন শেষ করার পর উর্দু সাহিত্যে মাস্টার্সে ভর্তি হন তিনি।

ইরফানের মা চাইতেন ছেলে পড়াশুনা শেষ করে কলেজের প্রফেসর হোক। কিন্তু এই কাজটাও তাঁর কাছে বিরক্তিকর লাগত। এতোদিনে নাটক আর সিনেমার প্রতি গভীর একটা আগ্রহ জন্মেছিলো ইরফানের মধ্যে। সময় পেলেই চলে যেতেন সিনেমা হলে। কিন্তু তখনকার সময়ে সিনেমা হলে নতুন সিনেমা কম আসতো, এছাড়া ভারতীয় সিনেমা ছাড়া অন্যকোন সিনেমা চলতোও না। তাই ইরফান নিজেই একটা ভিসিআর কিনে নেন। সে সময়কার সব নামকরা সিনেমাগুলোর ক্যাসেট সংগ্রহ করে দেখতেন। সিনেমার জ্বর ধীরে ধীরে আবিষ্ট করে ফেলে তাঁকে। আর এ জ্বর সারাতে তিনি জয়পুরের বেশ কিছু থিয়েটার গ্রুপের সাথে কাজ শুরু করেন। জয়পুরের থিয়েটারে বেশ কিছুদিন কাজ করার পর তাঁর মনে হলো, এখানে আর শেখার বাকি কোন কিছুই নেই, তবে তাঁকে আরও শিখতে হবে।  তাই তিনি দিল্লীর ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামাতে ভর্তি হওয়ার জন্য আবেদন করেন। উল্লেখ্য যে, তিনি স্কলারশিপসহ ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামাতে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়ে যান।

ইরফান খান সবসময় একটা ব্যাপারে ভয় পেতেন, যে কাজটা তিনি করছেন তাতে একঘেয়েমি না চলে আসে। কারণ খুব দ্রুত যে কোন ব্যাপারে একঘেয়ে ভাব চলে আসার অসুখ ছিলো তাঁর। আর মূলত এ কারণেই ইরফান সারাজীবনই নতুন কিছু করতে চাইতেন এবং করে গেছেনও। তবে অভিনয়ের প্রতি তাঁর এত ঝোঁক আর ভালো লাগার কারণ ছিলো, তিনি চাইলেই যে কোন চরিত্র ধারণ করতে পারতেন। একেক সময় একেক চরিত্রে নিজেকে উপস্থাপন করতে পারতেন, ঐ চরিত্র নিয়ে ভাবনায় ডুবে যেতে পারতেন বলেই অভিনয়ের প্রতি তাঁর কখনোই একঘেয়েমি ভাবটা কাজ করেনি। এই ব্যাপারটা যখন থেকে বুঝতে পেরেছিলেন মনস্থির করেছিলেন অভিনয়কেই পেশা হিসেবে গ্রহণ করবেন। এরপর এক সুন্দর সকালে জয়পুর থেকে ট্রেনে চড়ে চলে আসেন দিল্লীতে। দিল্লীর ড্রামা স্কুলে এসে অভিনয় এর ষোলকলা শিখতে ব্যস্ত ছিলেন ইরফান। সারাদিনই তাঁর হাতে কোন না কোন নাটকের স্ক্রিপ্ট থাকতোই।

১৯৮৪ সালে দিল্লী ন্যাশনাল ড্রামা স্কুলের পাঠ চুকিয়ে মুম্বাইয়ের পথ ধরেন। ততোদিনে দিল্লীতে অভিনেতা হিসেবে বেশ সুনাম কুড়িয়েছিলেন তিনি। কিন্তু মুম্বাই শহরে পা রাখা স্বপ্নবাজ আর দশটা মানুষের মতো তাঁকেও বেশ কাঠখর পোড়াতে হয়েছে খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকার জন্য। শুরুর দিকে তিনি টিউশনি পড়িয়ে, মানুষের বাসায় এসি ঠিক করে রোজকার করতেন। টেলিভিশন এবং সিনেমায় বহুবার অডিশন দিয়েও টিকতে পারেননি। কিন্তু হাল ছাড়ার পাত্র ছিলেন না ইরফান। ফলে ভাগ্য তাঁকে আশাহত করেনি। বেশ কিছু টিভি সিরিয়ালে অভিনয়ের সুযোগ পেয়ে যান ইরফান। একে একে অভিনয় করলেন চাণোক্য, ভারাত এক খোঁজ, সারা জাহা হামারা, বানেগী আপনে বাত, চন্দ্রকান্ত, শ্রীকান্ত, আনুগুঞ্জ, স্টার বেস্টসেলারস ও স্পার্স নামক টিভি সিরিয়ালে। দূরদর্শন এবং স্টার প্লাসের মতো বড় বড় চ্যানেলে দেখানো হত এসব সিরিয়াল। সিরিয়ালে অভিনয়ের পাশাপাশি থিয়েটারেও সময় দিতেন ইরফান। এভাবে সিরিয়াল আর থিয়াটারে মাঝে ঘুরপাক খেতে খেতে অবশেষে ১৯৮৮ সালে প্রথম সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তাব পান তিনি। বিখ্যাত পরিচালক মিরা নায়েরের “সালাম বোম্বে” সিনেমায় বেশ ভালো একটা চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ এলেও দূর্ভাগ্যবশত তাঁকে এই চরিত্রটির জন্য আনফিট ঘোষণা দেওয়া হয়। পরিবর্তে ছোট্ট একটি ক্যামিও চরিত্রে অভিনয় করতে বলা হয় তাঁকে। কিন্তু ঐ সময়টাতে দূর্ভাগ্য যেনো আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরেছিল ইরফানকে। ছোট্ট এই চরিত্রটি এডিটিংয়েই বাদ চলে যায়। এতোকিছুর পরেও ইরফান হার মানেননি, একবারের জন্যও অভিনয় ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবেননি। বরং আবারও নতুন উদ্যোমে শুরু করে ছিলেন।

এ বছরই তাঁর কাছে “এক ডক্টর কি মওত” সিনেমার অফার আসে। কাল বিলম্ব না করেই সিনেমা সাইন করে নেন ইরফান খান। কিন্তু ছবিটি অতোটা ব্যবসা করতে পারেনি। একই বছর আরও কয়েকটা সিনেমায় অভিনয় করেন তিনি। কিন্তু একটাও সিনেমাও ব্যবসাসফল হয়নি। বলিউডে উল্লেখযোগ্য সংখক সিনেমা করার পরেও তিনি আন-নোটিসড অভিনেতাদের তালিকার তলানীতে ছিলেন।

ক্যারিয়ারে যখন এমন টালমাটাল অবস্থাতেই ১৯৯৫ সালে বান্ধবী সুতপা সিকদারের সাথে বিয়ের পিড়িতে বসেন ইরফান খান। মূলত বিয়ের পরেই তাঁর ক্যারিয়ার বাক নেয়। ক্যারিয়ারে প্রথম ব্রেক-থ্রো আসে লন্ডন বেজড ডিরেক্টর আসিফ কাপাড়িয়ার হাত ধরে। “দ্যি ওয়ারিয়র” সিনেমায় অসাধারণ অভিনয় করে বলিডের সবার নজড় কাড়তে সক্ষম হন তিনি। উল্লেখ্য যে, এই সিনেমাটি বাফটা অ্যাওয়ার্ডে সেরা ব্রিটিশ ফিল্মের পুরস্কার জিতে নেয়। অস্কারের জন্য যুক্তরাজ্য থেকে যে সিনেমাটি পাঠানো হবে, তার সংক্ষিপ্ত তালিকাতেও এই সিনেমাটি জায়গা পেয়েছিল। এরপর তাঁকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। “দ্যি ওয়ারিয়র” এ অভিনয়ের পর তিনি শেক্সপিয়রের “ম্যাকবেথের” এর হিন্দি এডিশন “মকবুল” সিনেমায় নাম ভূমিকায় অভিনয় করেন। “মকবুল” সিনেমায় তাঁর অভিনয় মুগ্ধ হয়ে দেখেছিলো তখনকার সিনেমাখোররা। এভাবেই দীর্ঘ অপেক্ষা আর বাধাবিপত্তির পর ধীরে ধীরে নিজের জাত চেনাতে শুরু করেন তিনি। মকবুল সিনেমা মোটামুটি ভালোই ব্যবসা সফল হয়েছিলো। আর তাই ইরফানও তখন থেকেই প্রধান চরিত্র ছাড়া অভিনয় করবেন না বলে মনস্থির করেন।

সমালোচকদের পছন্দের সিনেমা বা আর্ট ফিল্মের বাইরে সত্যিকার অর্থেই বলিউডের বাণিজ্যিক কোন সিনেমার প্রধান চরিত্রে ইরফান প্রথম অভিনয় করেন ২০০৫ সালে। “রগ” নামের এই সিনেমায় ইরফানের অভিনয় সমালোচকদের মন জয় করে নেয়। সাথে লগ্নিকারীদের ব্যবসাও হয় বেশ ভালো। এই সিনেমায় ইরফানের অভিনয় নিয়ে আর্টিকেলে উল্লেখ করা হয়-

“Irfans eyes speaks louder than his words”

২০০৭ সালে অনুরাগ বসুর বানিজ্যিক সিনেমা “লাইফ ইন আ মেট্রো”-তে উল্লেখযোগ্য একটা চরিত্রে অভিনয় করেন ইরফান খান। সিনেমাটি ভারতের বক্স অফিসে ঝড় তোলে। আর এই সিনেমায় অসাধারণ অভিনয়ের জন্য ইরফান খান ফিল্মফেয়ার, আইফা এবং স্টার স্ক্রিন অ্যাওয়ার্ড জিতে নেন।

এরই মাঝে বেশকিছু আন্তর্জাতিক সিনেমাতেও অভিনয় করেন ইরফান খান। তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, নেম সেক এবং এ মাইটি হার্ট।

২০০৮ সালে ইরফান খান অস্কারজয়ী সিনেমা “স্লামডগ মিলিয়নিয়ার”-এ পুলিশ অফিসারের চরিত্রে অভিনয় করেন। সিনেমাটি বেস্ট পিকচার, বেস্ট ডিরেক্টরসহ ৮টি ক্যাটাগরিতে অস্কারসহ ৭টি বাফটা অ্যাওয়ার্ড ও ৪টি গোল্ডেন গ্লোব অ্যাওয়ার্ড জিতে নেয়। এই সিনেমার জন্য তিনি এবং সিনেমার অভিনেতারা স্ক্রিন অ্যাক্টরস গিল্ড অ্যাওয়ার্ড ফর আউটস্ট্যান্ডিং পারফর্মেন্স “বাই আ কাস্ট ইন আ মোশান পিকচার” অ্যাওয়ার্ড জয় করেন। স্ল্যামডগ মিলিয়নিয়ারে ইরফানের অসাধারণ অভিনয় দক্ষতা বলিউডের সীমা ছাড়িয়ে তাঁকে বিশ্বখ্যাতি এনে দিয়েছিলো।

স্লামডগ মিলিয়নিয়ারের অস্কারজয়ী পরিচালক ড্যানি বয়েল ইরফান খান সম্বন্ধে এক ইন্টারভিউয়ে বলেছেন, “ইরফান একই অভিনয় বারবার একইরকম নিখুঁতভাবে করতে পারেন। এটা দেখতে পারা সত্যিই অসাধারণ।”

এরপর একে কে এসিড ফ্যাক্টরি, নিউ ইয়র্ক, পান সিং তোমর সিনেমায় প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন। উল্লেখ্য যে, পান সিং তোমর সিনেমা ইরফানকে প্রথমবারের মতো ন্যাশনাল এওয়ার্ড ফর বেস্ট এক্টরের খেতাব এনে দেয়।

বলিউডের সীমানা ছাড়িয়ে এতোদিনে ইরফান হলিউড ইন্ডাস্ট্রিতেও শক্ত তাবু গেঁড়ে ফেলেছিলেন। ২০১২ সালে ইন্টারন্যাশনালি সুপারহিট সিনেমা “দ্যি এমেজিং স্পাইডারম্যান” এবং “দ্যি লাইফ অফ পাই” এ তাঁর অভিনয় বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত এবং সমালোচিত হয়েছিলো। হলিউডে শক্ত অবস্থানে থাকলেও নিজের আঁতুরঘর বলিউডকে ছাড়তে পারেন নি ইরফান। গুন্ডে, হায়দার এবং পিকু সিনেমা দিয়ে আবার ফিরেছেন বলিউডে।

ইরফান নিজের দায়িত্ব আর কথায় অবিচল ছিলেন। অনেকেই হয়তো জানেন না, পিকু সিনেমায় অভিনয় করার জন্য তিনি যখন ভারতে এসেছিলেন তখন বলিউডের অন্য এক সিনেমায় বেশ কয়েকগুণ বেশি পারশ্রমিকের বিনিময়ে বড়সড় একটা চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়। ইরফান খান সেই প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছিলেন।

২০১৫ সালে বলিউডে জাজবা এবং হলিউডে জুরাসিক পার্ক মুক্তি পায়। জুরাসিক পার্ক সিনেমাটি সুপারহিট হয়, জাজবাও দারুণ ব্যবসা করে।

এছাড়াও ২০১৬ সালে ড্যান ব্রাউনের ইনফার্নো বইয়ের কাহিনী অনুকরণে বানানো সিনেমা ইনফার্নোতে টম হাঙ্কসের সাথে অভিনয় করে হলিউডে সাড়া ফেলে দেন ইরফান খান। এই সিনেমার অভিনয় তাঁকে হলিউডে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়।

এরপর তিনি লাঞ্চবক্স, কারিব কারিব সিংগেল, হিন্দি মিডিয়ামের মতো হিট ছবি উপহার দিয়েছেন দর্শকদের। প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন মোস্তফা সারওয়ার ফারুকী পরিচালিত বাংলা সিনেমা “ডুব”-এ।

কিন্তু এরইমধ্যে ইরফান খানের জীবনে এক ঘন কালো অন্ধকার ঘনিয়ে আসতে থাকে। যা কেউ ভাবতেও পারে নি। ২০১৮ সালের মার্চ মাসে নিউরো এন্ডিক্রাইম টিউমার ধরা পরে তাঁর। ইংল্যান্ডে প্রায় এক বছর চিকিৎসা নেওয়ার পর ২০১৯ এর মাঝামাঝি সময়ে ভারত ফেরত আসেন তিনি। অভিনিয় করেন তাঁর সর্বশেষ সিনেমা “ইংরেজি মিডিয়াম”-এ।

হিন্দি মিডিয়াম সিনেমার প্রমোশন চলাকালে আবারও অসুস্থ হয়ে যান তিনি। এদিকে তাঁর মায়ের মৃত্যুর সপ্তাহখানেক পর ইরফান খানের স্বাস্থ্যের অবনতি হলে তাঁকে ভর্তি করা হয় মুম্বাইয়ের কোকিলাবেন ধীরুভাই আম্বানি হাসপাতালে। সেখানেই চিকিৎসারত অবস্থায় ২৯ এপ্রিল ২০২০ সালে মৃত্যুবরণ করেন ইরফান খান।

ইরফান খান একজন শক্তিমান অভিনেতার নাম। সমালোচক, অভিজ্ঞ এবং অন্যান্য শিল্পীদের মতে, তিনি শুধু ভারতীয় সিনেমার নয়, গোটা বিশ্বের একজন অন্যতম সেরা, অনন্য সাধারণ এবং মেধাবী অভিনেতা। ১৯৮৮ সাল থেকে বহু পরিশ্রম আর উত্থান-পতনের পর নিজেকে এই পর্যায়ে নিয়ে এসেছিলেন তিনি। শুধু বলিড নয় বরং বিশ্ব সিনেমার ইতিহাসে জ্বলজ্বলে হরফে লেখা থাকবে ইরফান খানের নাম, দীর্ঘ দীর্ঘ দিন ধরে।


লেখক 

নিয়ন রহমান