বিষণ্ণ দিনগুলিতে সৃষ্টিসুখের ‍উল্লাস

শুরুটা হোক শুরু থেকে। এই সংখ্যাটি, মানে অনলাইন সংস্করণের এই সংখ্যাটি, যেটাকে আমরা পরিচিত করাচ্ছি সিনেমা সংখ্যা নামে, প্রকাশের তারিখ নির্দিষ্ট ছিল ৬ই আষাঢ়। কিন্তু করোনাকালীন যোগাযোগ আর নানাবিধ সমস্যায় একদিন পরে মানে ৭ই আষাঢ় প্রকাশিত হলো। প্রিয় পাঠক, ৭ই আষাঢ় হলো ২১শে জুন। হ্যাঁ, ২১শে জুনে প্রকাশিত হলো অকালবোধন এর সিনেমা সংখ্যাটি। নিয়ম হলো সংখ্যা প্রকাশের সাথেই প্রকাশিত হবে সম্পাদকীয় বা সম্পাদকের বক্তব্য। কিন্তু তা হলো কই? প্রকাশের দুইদিন পেরিয়ে এখন শুরু হয়েছে ২৩শে জুন। আর আমি লিখতে বসেছি প্রকাশ হয়ে যাওয়া সংখ্যার সম্পাদকীয়। এটা আসলে দীর্ঘদিনের বেকারত্বের কুফল বা আলস্য। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত হয়েছিল অকালবোধনের ১৮তম মুদ্রিত সংখ্যা। এরপর পাঁচ বছর ধরে আমি এক বেকার সম্পাদক। পাঁচ বছর পর অনলাইন সংস্করণের যাত্রা। গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের গত বছরে প্রকাশিত হলো ১৯তম মুদ্রিত সংখ্যা। কিন্তু বেকারত্বের আলস্য যেন কাটছে না।

এবার আসি বর্তমান কর্মকাণ্ডের কথায়। করোনার উত্তাপে গত মার্চ থেকে বাংলাদেশ হাইবারনেশনে চলে গেল। একটা উৎকট সময়ের শুরু। অনিশ্চিত জীবনযাত্রা। বিশ্বজুড়ে কাতারে কাতারে মানুষের মৃত্যুর খবর। বিষণ্ণতা, দুশ্চিন্তা, হতাশায় ছেয়ে যায় এক একটা জীবন। এমন সময় ত্রাণকর্ত্রী হিসেবে আবির্ভূত হলেন কবি মন্দিরা এষ। স্বেচ্ছায় নির্বাহী সম্পাদকের পদ গ্রহণ করলেন। ধরলেন অকালবোধনের হাল। পুনর্গঠিত হলো টিম অকালবোধন। একে একে প্রকাশিত হলো রুদ্রমঙ্গল আর তূণীর নামে দুটি দুর্দান্ত সংখ্যা। অকালবোধন পেল এক নতুন মাত্রা। এক নতুন উদ্যম।

এই যে করোনাক্লান্ত পৃথিবী। চারিদিকে শুধু একটাই রব, নিশ্চিত করতে হবে সামাজিক দুরত্ব। পৃথিবীর তামাম সিনেমা হল দর্শকশূন্য তালাবদ্ধ। আটকে আছে নতুন ছবির মুক্তি, শ্যুটিং ইত্যাদি। বেকার সময় কাটাচ্ছেন প্রযোজক, পরিচালক, শিল্পী সহ সিনেমা সংশ্লিষ্ট সকলেই। ঠিক এমন সময়ে অকালবোধন আপনাদের সামনে নিয়ে এলো ‘সিনেমা সংখ্যা’।

‘সিনেমা সংখ্যা’ নিয়ে পরিকল্পনা তূণীর সংখ্যার প্রস্তুতির সময় থেকেই ছিল। এবং যেহেতু টিম অকালবোধনের কেউ সিনেমার সাথে কোনভাবে যুক্ত নয়, তাই এ সংখ্যার জন্য সিনেমা সম্পর্কে জানা একজন অতিথি সম্পাদকের প্রয়োজন হয়। নির্বাহী সম্পাদকের ডাকে সাড়া দেন লাবনী আশরাফি। লাবনীকে অনুরোধ করা হয় সিনেমা সংখ্যার জন্য একটি পরিকল্পনা তৈরি করতে। কিন্তু লাবনীর সাথে আলোচনায় আমরা বুঝতে পারি, একটি কিংবা দু’টি বিশেষ সংখ্যা করে সিনেমাকে সঠিকভাবে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করা সম্ভব নয়। আমরা লাবনীকে নিয়মিতভাবে টিম অকালবোধনে যুক্ত হতে অনুরোধ করি। কর্মোদ্যমী মেধাবী মেয়েটা যুক্ত হয় আমাদের কর্মযজ্ঞে। তারই পরিকল্পনায় পুরো টিমের অক্লান্ত চেষ্টায় প্রকাশিত হলো সংখ্যাটি। এজন্য আমি অকালবোধনের নির্বাহী সম্পাদক এবং সহ-সম্পাদক শ্রী দেব, রনক জামান, নিয়ন রহমান এর প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। আর এই সংখ্যাটি উপহার দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানাই লাবনী আশরাফিকে।

রুদ্র কাওসার। তরুণ চলচ্চিত্রকর্মী। সিনেমা সংখ্যাটি প্রকাশে তার সহযোগিতা টিম অকালবোধন কৃতজ্ঞতাভরে মনে রাখবে। তাকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন। তার গ্রহণ করা চলচ্চিত্র পরিচালক এন. রাশেদ চৌধুরী’র সাক্ষাৎকারটি সংখ্যাটিকে অনন্য করেছে। তাকে কৃতজ্ঞতা।

এই মহামারী (?) সময়ে স্থবির জীবনের স্বাভাবিক যাত্রা। এমন রুদ্ধসময়ে একদল তরুণের উদ্যমী মনোভাব দেখে আমি উচ্ছ্বসিত হই। বিষণ্ণতা, দুশ্চিন্তা, হতাশায় নিমজ্জিত হতে হতে নতুন করে বাঁচার উদ্যম পাই এদের দেখে। এই সময়ে যেন আমি না, তারাই পরিচালিত করছে আমাকে। তাদের উদ্যম দিয়ে। তাদের নির্ভিকতা দিয়ে। তাদের সালাম।

ভুল-ত্রুটি খুব স্বাভাবিক, যদিও অনাকাঙ্খিত। আমরা চেষ্টা করেছি সংখ্যাটিকে ত্রুটিহীন রাখতে। কিন্তু যোগাযোগের সমস্যা, কারিগরি সমস্যা ইত্যাদি নানাবিধ কারণে ভুল রয়ে গেছে। যদিও ভুলগুলি সংশোধনের প্রয়াস থাকবে, তবুও প্রিয় পাঠক, ত্রুটি মার্জনীয়। ভালো থাকুন। মঙ্গল হোক।


লেখক :

অকালবোধন এর সম্পাদক


 

error: Content is protected !!