আনন্দ আশ্রম : একটি স্বপ্ন, একটি চিন্তা

 

প্রস্তাবিত নাম: আনন্দ আশ্রম (কবিতাশ্রম-এর বিকল্প)***১

রঙ: লাল, সবুজ, হলুদ***২

স্লোগান, মূলনীতি, প্রতীক, পতাকা: নির্মিত হবে সত্য, সুন্দর, আনন্দ, মঙ্গল – এ চারটি বিষয়কে ভিত্তি করে; এবং প্রতীক নির্মাণে উপরোক্ত তিনটি রঙের ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। উল্লেখিত চারটি বিষয়ের জন্য প্রথমেই মানুষের সার্বিক মুক্তি জরুরী। তাই বাঙলা ও বাঙালির মুক্তির বিষয়টি সর্বদা প্রাধাণ্য পাবে।

কবিতাশ্রম প্রতিষ্ঠার ইতিহাস: ২০০৫ সালে হিরা আর আমি একই সাথে ‘অ আবৃত্তি সংসদের’ আবৃত্তি কর্মশালায় যুক্ত হই। আমি কর্মশালায় যুক্ত হই মূলত সংগঠন চর্চার উদ্দেশ্যে। ডোমার থেকে ঢাকায় এসে অনেকটা ভ্যাবাচ্যাকা খাওয়া তরুণ তখন আমি। বিষয় ভিত্তিক আলাদা আলাদা সংগঠন ছিল অনেকটা আমার ধারণার বাইরে। জানতাম শুধু নাটকের জন্য আলাদা দল হয়। তাই সামান্য হাতিয়ার কণ্ঠকে ভরসা করে আবৃত্তি সংঠনের সাথে যুক্ত হই। হিরা, ঊর্মি, ফৌজিয়া আর আমার ইচ্ছা ছিল কর্মশালা ও অনুষ্ঠান শেষে সংগঠনচর্চা অব্যাহত রাখব। আরজু খানের (অ আবৃত্তি সংসদের অধিকারী) সাথে সেরকম কথাও প্রায় পাকা হয়ে রইল। কিন্তু মন টিকলো না। হিরার প্রস্তাবে শুধুই সাংগঠনিক আবৃত্তিচর্চার জন্য নতুন সংগঠন ‘আবৃত্তি আশ্রম’ গড়ার চেষ্টা করি। আমি, হিরা, রুমকি আর নন্দিতা। সময়টা ২০০৬-এর শুরুর দিকে।

এরপর একসময় হিরা হারিয়ে গেল। কিন্তু আমার ভেতর এক অদম্য বাসনা জেগে উঠল। ঢাকায় নিজেই সংগঠন গড়ব। ডোমার সাহিত্য ও সংস্কৃতি পরিষদ গড়ার অভিজ্ঞতায় ধারণা ছিল আমি একজন ভালো সংগঠক। তাই মাহি ভাইয়ের আহ্বান, উদীচী কেন্দ্রিয় সংসদে যোগদানের সুযোগ সব ছেড়ে চেষ্টা করতে থাকলাম। একসময় সবুজ ভাই আর কবির যুক্ত হলো আমার সাথে। তাদেরই পরামর্শে আবার ফিরে গেলাম আরজু খানের কাছে। সেখানে নতুন প্রশিক্ষণার্থীদের নিয়ে কাজ করলাম এক বছরের মতো। এবং ২০০৭-এর ২৬ মার্চ ঘোষণা করলাম নতুন সংগঠন ‘কবিতাশ্রম’-এর নাম।

আমার ভাবনা: সংগঠন চর্চা আমার নেশায় পরিণত হয়েছে। ডোমার সাহিত্য ও সংস্কৃতি পরিষদ আমার এই নেশা তৈরি করে দিয়েছে। কিন্তু কবিতাশ্রম গঠন ও একে প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে আমি যে অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছি,  সময়ে আমার ভেতর যে বোধের জন্ম হয়েছে, তা আমাকে নতুন করে ভাবাতে বাধ্য করছে। শুধুই সংগঠন চর্চা নয়। সংগঠনচর্চার মাধ্যমে এমন কিছু করা, যেটা আমার চারপশাশের সবাইকে ভালো রাখবে। আমি শিল্পের চর্চা করার চেষ্টা করেছি/করছি। শিল্পের প্রথম ও প্রধান কাজ তো আনন্দ উৎপাদন করা। তবে কেন আমি আমার মানুষকে আনন্দিত করতে পারবো না।

অভিভূত হয়ে ছাত্র রাজনীতি ও এই সংগঠনচর্চার মধ্য দিয়ে আমার ভেতর এক ধরণের দায়িত্ববোধ জন্ম নেয়। আমি যেমন ঈশ্বরে বিশ্বাসী, ঠিক তেমনি বিশ্বাস করি আমার রাজনীতিবিদদের। তাদের সকল অপকর্মের পরও তারাই আমার নেতা। আমি এমনটাই মনে করি। তাই আনচান করে ওঠে আমার ভেতর, যখন ফখরুদ্দিন আহমেদের সরকার একের পর এক রাজনীতিবিদদের বন্দী করা শুরু করে। একদিকে এদের অসততার ভয়ংকর চিত্র সামনে আসছে, অন্যদিকে জাতির নেতৃত্বশূণ্য হবার আশংকা। ঐ সময়টাতেই গড়ে উঠছে কবিতাশ্রম। আমার নিরীহ শিল্পমুখী সাংগঠনিক চিন্তা রাজনীতির দিকে বারবার ঘুরতে লাগল। সমাজের, রাষ্ট্রের চারপাশের অজস্র অন্যায়ে আমি বিভ্রান্ত, বিচলিত এক মানুষ। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলো। আশান্বিত হলাম। ভাবলাম, হয়তো এবার কিছু হবে। কিন্তু আমি যে স্বপ্ন লালন করি, রাজাকারদের বিচার হবে। সেই বিচার নিয়ে প্রিয় দলের এমন রাজনীতিক খেলায় আমি অস্থির হয়ে উঠি। অথচ আমার করার কোনো ক্ষমতা নেই।

নজর দিই সমাজে, রাষ্ট্রে বেড়ে ওঠা সকল অন্যায়ের দিকে। ভাবতে থাকি এর প্রতিকারের উপায়। কিন্তু দেখি একটা অন্যায় আরেকটার সাথে যুক্ত। শুধু একটাকে শোধন করলে সমাজকে, রাষ্ট্রকে শুদ্ধ করা সম্ভব হবে না। সমাজ বা রাষ্ট্রের শোধিত অংশটি দেখতে দেখতেই আবার অশুদ্ধ হয়ে পড়বে। তবে এর কি কোনো প্রতিকার নেই?

আমার দেশ, আমার মানুষের মুক্তি আমার স্বপ্ন। কথা বলি বাঙলার মানুষের মুক্তি নিয়ে। দুই অংশের মানুষ। মায়ের দুটি অংশ নিয়ে। বাংলাদেশ আর পশ্চিমবঙ্গ। মুখের ভাষায় অনেক পার্থক্য তৈরি হলেও আমরা এখনো বাঙলায় কথা বলি। বাংলাদেশের বাঙলা অ্যামেরিকান ইংরেজিকে অনুকরণ করতে গিয়ে একটা জগাখিচুড়িতে পরিণত হতে চলেছে। বাঙলা ভাষা ও সাহিত্য নিয়ে কাজ করবে যে ‘বাংলা একাডেমী’ সে নিজেই নিজের নামটা ভুল বানানে লিখে রেখেছে। সাহিত্য ধীরে ধীরে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে বলে আমার ধারণা। সাহিত্য পাঠ আটকে আছে জনপ্রিয়তার হিসেবে। সেক্ষেত্রে হাতে গোনা কয়েকজন ছাড়া সাধারণ পাঠকের কাছে পৌছুতে পারছে না অধিকাংশ লেখক। কবিতার অবস্থা তো অনেক সঙ্গীন। কবিতা লেখা হচ্ছে গদ্যছন্দে। এটা কেমন ছন্দ আমার বোধগম্য হয় না আজও। অমিল কবিতাকে যদি গদ্যছন্দ বলা হয়, তো সেটি ভুল। এর নামই তো অমিত্রাক্ষর ছন্দ। মাত্রা, ছন্দ না থাকলে তো ভাই কবিতা হবে না। কবিতা অনেকটা ঢেউয়ের মতো। ছন্দ মেনে বালুকাবেলায় আছড়ে পড়ে। হুমায়ুন আহমেদ হিমু ও মিসির আলীর জন্ম দেন। তৈরি করেন ক্রেজ। তিনি আসলে পাঠক তৈরি করেন নি, তার বইয়ের বাজার তৈরি করেছেন।

পশ্চিমবঙ্গের সাহিত্যের কথা তেমন করে বলতে পারবো না। তবে এটুকু আশার কথা যে, পশ্চিমবঙ্গে সাহিত্য এক/দুইজনের হাতে বন্দী নয়। তরুণরা বেশ দৃপ্ত। যেমনটা ঢাকায় দেখি না। ভাষা হিন্দি প্রভাবিত। মায়ের চেয়ে মাসির প্রতি দরদ বেশি। ইংরেজির মনে হয় ভারতীয় ঢং চালু হয়ে গেছে। পশ্চিমবঙ্গের বাঙলায় সেটাও লেগেছে মনে হয়। তবে বানান, উচ্চারণসহ ওরা যতটুকু ব্যবহার করে সেটুকু শুদ্ধভাবেই করে। এটাও ঢাকায় অনেকাংশে অনুপস্থিত।

আমার সব বিভ্রান্তি, আমার দেখা সব সমস্যার অন্তরালে সমস্যা একটাই বলে আমার মনে হয়। শিক্ষা। আমরা ঔপনিবেশিক শিক্ষায় শিক্ষিত। এই শিক্ষা মানুষকে দাস বানিয়ে রাখে। এ শিক্ষায় মানুষ নিজের ইচ্ছায় বাঁচতে পারে না। তাই আমি শিক্ষা নিয়ে কাজ করতে চাই। আমাদের যত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে, সব দাস বানাবার কারখানা। এমন অবস্থায় কীভাবে শিক্ষার দায়িত্ব নেয়া যায়? এটা একটা বড় সমস্যা।

আমার কল্পনায় আমার পরিকল্পনা: কবিতাশ্রম নিয়ে আমার পরিকল্পনা ছিল- সংগঠন, আন্দোলন, বিশ্ববিদ্যালয়। যেটা ইংরেজি করলে দাঁড়ায় ORGANIZATION, MOVEMENT, UNIVERSITY সংক্ষেপে OMU । সংগঠন গড়ে শিল্প ও সাহিত্যকে মাধ্যম বা হাতিয়ার হিসেবে নিয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রের সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে একটা আন্দোলন গড়ে তোলা। আন্দোলন সফল হলে সেই আন্দোলনকে টিকিয়ে রাখত কবিতাশ্রম-কে একটি সামাজিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবর্তিত করা। ফলে আমার ধারণায়, সমাজে ও রাষ্ট্রে সংঘটিত সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে একটা জোরালো প্রতিবাদ বা প্রতিরোধ সর্বদা কাজ করবে। কিন্তু সংগঠন সুপ্রতিষ্ঠিত করে আন্দোলন গড়ে তোলা এরপর সেই আন্দোলন বা আন্দোলনের চেতনা টিকিয়ে রাখার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা স্বল্প সময়ের কাজ না। এর জন্য দীর্ঘ সময় প্রয়োজন। অথচ জানি, আমার হাতে হয়ত এতো সময় নেই। তাই OMU পরিকল্পনায় একেবারেই কাজ শুরু করতে সংগঠন, আন্দোলন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা সকলের সমন্বয়ে একটা কিছু দাঁড় করানোর চিন্তা কাজ করছে আমার ভেতর।

আলোচনা সমন্বিত OMU পরিকল্পনা নিয়েগড়ে উঠবে সাংগঠনিক বিশ্ববিদ্যালয়। উদ্দেশ্য হবে চর্চা ও গবেষণার মাধ্যমে জ্ঞান উৎপাদন ও এর বিকাশ। দেশব্যাপী***৩ সাংগঠনিক চর্চার মাধ্যমে এই জ্ঞান উৎপাদন ও চর্চার ব্যবস্থা করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের যেমন বিভিন্ন অনুষদ থাকে, ঠিক তেমনি ‘আনন্দ আশ্রম’-এরও বিভিন্ন বিভাগ থাকবে, যেগুলো মূলত পরিষদ নামে পরিচিত হবে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় ‘নিখিল বঙ্গ সাহিত্য পরিষদ’। এমনভাবে শিল্প, অর্থনীতি, শিক্ষা সহ বিভিন্ন পরিষদ থাকতে পারে।

‘আনন্দ আশ্রম’-এর সুনির্দিষ্ট কর্ম পরিকল্পনা থাকবে। যেটি হবে সুদূরপ্রসারি ও সময়োপযোগী। ‘আনন্দ আশ্রম’-এর গঠনতন্ত্রে এর সাংগঠনিক কাঠামো, আর্থনীতিক কাঠামো, উদ্দেশ্য ও তা অর্জনে পরিকল্পনা সুনির্দিষ্ট থাকবে। এই গঠনতন্ত্রে বিভিন্ন পরিষদ গঠনের কথা বলা থাকবে; কিন্তু পরিষদের পরিকল্পনা কিংবা গঠনপ্রণালী উল্লেখ থাকবে না। কোনো পরিষদ গঠন করলে সেই পরিষদের জন্য নিজস্ব গঠনতন্ত্র তৈরি হবে; এবং তা অবশ্যই ‘আনন্দ আশ্রম’-এর গঠনতন্ত্রে বর্ণিত নিয়মানুযায়ী অনুমোদিত হতে হবে। সকল পরিষদ ও তাদের গঠনতন্ত্র ‘আনন্দ আশ্রম’-এর গঠনতন্ত্রের অধীন হবে। সকল পরিষদ গঠিত হবে আশ্রমের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে।‘আনন্দ আশ্রম’ পরিচালনায় কেন্দ্রিয় সকল সাংগঠনিক কাঠামো তৈরিতে সকল পরিষদের প্রতিনিধিত্ব থাকবে। মূলত সকল পরিষদের সমন্বয়েই ‘আনন্দ আশ্রম’-এর সাংগঠনিক কাঠামো গঠিত হবে। জ্ঞান উৎপাদন ও চর্চার উদ্দেশ্যে আশ্রম বিভিন্ন পরিষদের কর্মসূচী বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে। এবং উৎপাদিত জ্ঞান সংরক্ষণের ব্যবস্থা করবে। সকল পরিষদের কমসূচীগুলো সমন্বয় করে জ্ঞান উৎপাদন ও চর্চার এই সাংগঠনিক প্রয়াসকে বেগবান করতে আশ্রম প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবে।

গঠিত বিভিন্ন পরিষদ নিজ নিজ কর্ম পরিকল্পনা অনুযায়ী তাদের কর্মসূচী প্রণয়ন করবে। এবং সেই লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবে। আলোচনা করা যাক পরিষদ গঠন ও এদের কাজের ধারা নিয়ে। উদাহরণ হিসেবে নেয়া যায় ‘নিখিল বঙ্গ সাহিত্য পরিষদ’ নামটি।

নিখিল বঙ্গ সাহিত্য পরিষদ: ‘অকালবোধন’-এর মাধ্যমে বা এর সাথে যুক্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের তরুণ সাহিত্যকর্মীদের মধ্যে কয়েকজনকে নিয়ে একটি সমন্বয় পরিষদ গঠন করা যেতে পারে। এই পরিষদ একটা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে একটি পরিকল্পনা প্রণয়ন করবে ‘নিখিল বঙ্গ সাহিত্য পরিষদ’ গঠনের জন্য। এবং নির্দিষ্ট সময়ে আয়োজিত একটি সম্মেলনে (যা ‘নিখিল বঙ্গ সাহিত্য সম্মেলন’ নামে পরিচিত হবে) সেই পরিকল্পনা প্রকাশ করবে। সম্মেলনে উপস্থিতদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় মতামত সংগ্রহ করে ‘নিখিল বঙ্গ সাহিত্য পরিষদ’ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেয়া হবে।

পরিষদের একটি কেন্দ্রিয় পরিচালনা পর্ষদ থাকবে। ধরা যাক সেটি ঢাকার শাহবাগে অবস্থিত। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সাহিত্যিক ও সাহিত্যবোদ্ধাদের নিয়মিত আড্ডার ব্যবস্থা করতে হবে। সে সকল আড্ডার বা বৈঠকের আলোচনার বিষয়বস্তু ও সিদ্ধান্ত কেন্দ্রে প্রেরণ করতে হবে। কেন্দ্রে তরুণ-প্রবীণের সমন্বয়ে একটি দল থাকবে, যারা সকল আড্ডার বিষয়বস্তু ও সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা করবে। এবং প্রয়োজনীয় বিষয়বন্তু ও সিদ্ধান্ত নিয়ে নির্দিষ্ট সময়ে একটি কাগজ প্রকাশিত হবে। এটি ওয়েবভিত্তিকও হতে পারে। আবার উভয়ই হতে পারে। পড়ার কোনো বিকল্প নেই। সেমতে, মানুষকে পাঠে আগ্রহী করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে। সাহিত্যিকের সাহিত্যকর্মের প্রকাশ ও তার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে। উৎপাদিত জ্ঞান সংগ্রহের উদ্দেশ্যে পাঠাগার বা আর্কাইভ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহন করতে হবে। …..

আর্থনীতিক কাঠামোর আলোচনা: ‘আনন্দ আশ্রম’-এর আর্থনীতিক কাঠামো সুস্পষ্ট ও বিস্তারিতভাবে ‘কবিতাশ্রম’-এর আর্থনীতিক কাঠামোর মতোই হবে। বিভিন্ন পরিষদ ও তাদের উপ পরিষদগুলো নিজ নিজ আয়ের বন্দোবস্ত করবে এবং ব্যয় অতিরিক্ত আয়ের একটি অংশ কেন্দ্রের দিকে প্রেরণ করবে। আয়ের জন্য বাণিজ্যিক কার্যক্রমের বিকল্প কিছু হতে পারে না। সাধারণভাবে চাঁদা, অনুদান সংগ্রহ অব্যাহত থাকবে। এছাড়াও প্রকাশনা ব্যবসায় সহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক কার্যক্রমে আশ্রম জড়িত হতে পারে। বিভিন্ন পরিষদও একই পন্থা অবলম্বন করতে পারবে; তবে তা অবশ্যই আশ্রমের অনুমতি সাপেক্ষে হতে হবে। আশ্রম ও বিভিন্ন পরিষদে যারা সার্বক্ষণিক কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত থাকবেন, আশ্রম অথবা সংশ্লিষ্ট পরিষদ তার ভরণ-পোষণের সুবন্দোবস্ত করবে। ছাত্র-ছাত্রীদের অবকাশকালীন কাজের ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়াও আশ্রম এবং বিভিন্ন পরিষদ সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে নিজেদের তহবিল গঠন করবে এবং পেশাদারি সংগঠনচর্চার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবে।

***১। কবিতাশ্রম নামটি সাধারণের মাঝে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করছে। নামের কারণে এটিকে শুধুমাত্র কবিতার সংগঠন হিসেবেই ভাবছে সকলে। তাই, এই নামটি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত। প্রস্তাবিত  নাম ‘আনন্দ আশ্রম’।

***২। সবুজ বাঙলা, মুক্তির লাল সূর্য ও সোনালি (হলুদ) ফসল – এই তিনের প্রতিচ্ছবি হিসেবে লাল, সবুজ ও হলুদ কবিতাশ্রম-এর সাংগঠনিক রঙ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। একই ধারণায় এই তিনটি রঙ প্রস্তাবিত আনন্দ আশ্রম-এর সাংগঠনিক রঙ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

***৩।  দেশ সবসময় আমার কাছে মা। আমার কাছে আমার দেশ বাঙলা। সম্পূর্ণ বাঙলা। এখানে আমি বিভক্ত, অবিভক্ত, খ-িত শব্দগুলো ব্যবহার করতে চাই না। তাই দেশব্যাপী বলতে আমি পুরো বাঙলাকেই বুঝিয়েছি। যা বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ দুভাগে দুটি আলাদা আলাদা নামে পরিচিত।

error: Content is protected !!