ভাষা নিয়ে আমরা কি শুনতে চাই আর?


লেখাটি প্রথম প্রকাশিত হয় মুদ্রিত অকালবোধন এর শীত সংখ্যা ১৪২১ এ। এই প্রবন্ধটি অনলাইন সংস্করণের পাঠকদের জন্য পুনরায় প্রকাশ করা হলো।


আমরা নিজের ইচ্ছাতেই ঢুকে পড়েছি সেই ফাঁদের মধ্যে, যা একটা গোলক ধাঁধাঁও! আমার মনের সহজ ভাষাকে নিয়ন্ত্রন করছে আমারই লোভ, উচ্চাকাঙ্খা, চক্রান্তকামী অন্য জটিল মন।

নিরিবিলি জনহীনতায় আমি ঢুকে পড়ি। ধরা যাক তা একটা বিরাট স্যুয়ারেজ পাইপ, রাস্তার পাশে পড়ে আছে, তাতে আমার সংসার… আমার বালিশ, মগ, স্যান্ডেল। আমি থাকি তার ভিতর। আমি ঘরহারা। বিশ পঁচিশটা শব্দ দিয়া আমার দিন চলে। আমার অঞ্চল! আমি আমার পাতিলটাকে বললাম: হাবিলা কাব্বালা বাকলম ভু ভু…। পলিথিনের লাকড়ির আগুন গুলগুল করে জ্বলে জ্বলে আমার জামুর্কি সিদ্ধ করতে করতে একটা হাসি দিল। আমি ভাতের গন্ধে চিলচিল করে উঠলাম।

কিছুদিন পর একটা ছোট্ট ইন্দুর আর একটা শিয়াল আমার খুব ভক্ত। ইন্দুর খুব নিয়মের মধ্যে থাকে.. দিনকাল ভালো না, বিপদ যে কোনো দিক থিকা আহে! শিয়ালটা সিতেশ বাবুর আশ্রয়ে ছেলো। বেশ ভদ্রগোছের চালাকি করেই না বললে চলে। খাইদাই করার পর… যখন নিরিবিলি.. ইন্দুর হালুম হুলুম বলে আমারে ভয় দেখায়, আমরা হাসতে হাসতে ফ্রেস হয়ে যাই। শিয়ালের লেজ ফুলে ওঠে, আমারো গোঁফ খেজুরে হয়ে যায়। আন্তদেশীয় গুগল আসার আগেই সব অন্তরের কথা বুঝে ফেলি.. কোনো কামলা অনুবাদক লাগে না।

ভাষা হচ্ছে পয়সা, তুলনার বিনিময়। এইবার আমি কথা বললাম রাস্তাফারিয়ার সাথে, গিল স্কট-হেরনের সাথে, কিং টাবি’র সাথে.. ডাইএন্টউড এর সাথে। তেমন কিছু না.. ইকটু হাসিঠাট্টা, পরিচয়, নাচানাচি, ফাতরামি। তাতেই কি গলাগলি ভাব। এ যেন কতো কালের জানাশোনা। মাথার মধ্যে ডোপামিন স্পাইক কমে।

মান ভাষা আর সবাক ভাষা। ভাষা দুই প্রকার।

তুমি নিজের সাথে যখন থাকো তখন শব্দ লাগে না, প্রতীক লাগে না। গাছের সাথে যখন, তোমার সাথে, কয়লার সাথে.. তখনো..।

বেশি মানুষের সাথে বেশি শব্দ। কম মানুষের কম। নিজের জন্য কোনো শব্দ নয়। তোমার জন্য কি কোনো শব্দ লাগবে? বলতেই হবে তোমাকে? তোমার জন্য চাই কলরব। তোমার জন্য আমার কেবল আর্তনাদ.. কই ছিলা আমার

যখন এতো ভাঙ্গাচুরা.. ?
তুমি সারাজীবনই ভালো ভালো কথা বা প্রকল্পনার পিছনে ছুটতে পারো.. কিন্তু এক সময় টের পাবে নিজেকে একটা জায়গায় স্থির করাটাই কঠিন.. মনে হবে: আমি তো সবই পারি! আসলে সব পারাটার পর হলো একটা জুয়া খেলা। যারা ছোটবেলা থেকে এসব করে থাকে.. পাগলা কবি খেলোয়ার বা অভিনেতা বা গায়ক তাদের ট্রেনিং থাকে.. বাকিদের অনেক কিছু পার হয়ে যেতে হয়.. ছেলেদের লম্বা চুল কাটতে হয়, মেরুদ- মটকাতে হয়.. মেয়েদের পাজামার ফিতা.. কিন্তু সব কিছুর পর একটা প্রতিশোধ.. একটা মার দিবার নিউটনিয় ফিজিকস, ৩য় সূত্র..

আমাদের একটা ট্রান্সের মধ্য দিয়া যাইতে হয়. একটা বোকাযোদ্ধাবস্থা.. একটা বোকা জীবন..
হাঁটা বাবার কাছে যাবো নাকি? তারে জিগামু নাকি: পথ কী?

ভাষা একটা বানানো প্লাস্টিক। এক বালতি পলিথিন। ভাষা বহুরকম, কিন্তু মাত্র এক প্রকার ভাষাই মানুষের.. বাকি সব অন্তর্গত!


লেখক:

কাজল শাহনেওয়াজ
কবি, প্রাবন্ধিক


error: Content is protected !!