সৃষ্টিশীলতার পক্ষে-বিপক্ষে ভাষার কারবার


প্রকাশিত লেখাটি পুনঃপ্রকাশ করা হয়েছে অকালবোধন মুদ্রিত সংস্করণের শীত সংখ্যা ১৪২১ থেকে। সে সময় অকালবোধন এর জন্য লেখাটি সংগ্রহ করে দিয়েছিলেন ভিন্নচোখ সম্পাদক কবি আলী আফজাল খান


বৃহৎ নৃগোষ্ঠীর মানুষও একটা সাদৃশ্যময় আচার-ব্যবহার ও ভাষা বৈশিষ্ট্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে চলে। তাই নানা মানুষের সাথে ভাষা ও আচরণের মাধ্যমে ঐক্য ঘটা খুবই স্বাভাবিক। আঞ্চলিক প্রভাব থাকা স্বত্ত্বেও এই সাদৃশ্যবোধ বজায় রাখতে সক্ষম হলেই যোগাযোগ স্থাপনে সমস্যা হয় না। এই অবস্থাটি আসলে অস্তিত্বের সংকটময় পরিস্থিতির কারণেই মানুষ তৈরি করে নেয়। এভাবে সম্পর্ক স্থাপনের মধ্য দিয়ে মানসম্পন্ন ভাষার ভেতরে সকল মানুষের দেখা সাক্ষাৎ ঘটে। অর্থাৎ, অনিবার্যতাই তাদের এক করে দেয়। শহরের একটা আদিভাষা থাকলেও সে-ভাষাই স্ট্যান্ডার্ড ভাষা হয়ে থাকবে এমনটা বাস্তবে সম্ভব নয়।

কথার ভাষা, আঞ্চলিক ভাষা আর লিখিত ভাষার মধ্যে দ্বন্দ্ব স্বাভাবিক, কখনোই প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয় নয়। বলা যায়, বর্তমান ঢাকার ভাষা আদৌ ঢাকাইয়াদের ভাষা কি? প্রাচীন ঢাকার নিজস্ব ভাষা বাস্তবে ঢাকাইয়্যা ক্ষুদ্র গোষ্ঠীর মধ্যেই সীমিত। ঢাকার অফিস আদালত ও অলি-গলিতে সেই ভাষার ব্যবহার নেই। রাজধানীর মর্যাদা পেলেও আদি ঢাকাবাসীরা তাদের স্থানিক ভাষাকে ঢাকার ভাষা করে তোলার প্রয়োজন কখনোই বোধ করেনিÑ আর এটাই স্বাভাবিক।

তবে ঢাকা রাজধানী হওয়ায় এর সাথে যেমন সকল জেলারই সম্পর্ক স্থাপিত হলো, তখন তাদের মধ্যে বিরাজমান সাদৃশ্যটুকুই বিবেচ্য হওয়া অনিবার্য। পরস্পরের যোগসূত্রের মধ্যে নতুন ভাষা-সংগঠনও জরুরি হয়ে পড়ে। যেমন কলকাতার ভাষা কলকাতাকেন্দ্রিক জনজীবনেরই আদলে গড়া। এর সাথে ঢাকার জনজীবনের মিল বা পার্থক্য চোখে পড়ার মতো। ঢাকার একজনের আঞ্চলিক শব্দ-ও-ধ্বনি কলকাতার একজনের আঞ্চলিক শব্দ-ও-ধ্বনি ইত্যাদি পূর্বে প্রতিষ্ঠিত ও চলমান ভাষার ভেতরে জায়গা করে নেয় বলেই ভাষার পরিবর্তন ঘটে। তবে আঞ্চলিক বলতে সব শব্দই যে জায়গা করে নিতে সক্ষম তা নয়। ধীরে ধীরে একটা মানভাষা তৈরি হওয়ার প্রক্রিয়া সবসময় চলমান থাকে। কেবল সাদৃশ্যের বাস্তবতার সাথে সামঞ্জস্য তৈরিতে সক্ষম যে শব্দ ধ্বনি ক্রিয়া কেবল তাদেরকেই সে গ্রহণ করে। তবে জীবনের বাইরে এখানে কোনো শব্দ নেই। আমাদের যে লেখার ভাষা বা গদ্য ভাষা তাকেও পর্বটি ক্রমান্বয়ে পেরিয়ে আসতে হয়েছে। আর এর মূল কারণ একটাই তা হলো যোগাযোগ সক্ষম থাকতে চাওয়া।

রবীন্দ্রনাথ নিজেও সাধুভাষা থেকে চলতি ভাষায় এসেছিলেন তার সাহিত্যকে সর্বস্তরে পঠনযোগ্য করার প্রয়োজনে, সর্বস্থানে নয়। তবে তা কতটা কথার কাছাকাছি হয়েছিলো, তাও ভাববার বিষয়। তিনি এই কঠিন কাজটাকে সহজ করার প্রবল চেষ্টা করেছেন। ভাষার ক্ষমতাকে মানুষই দিন দিন বৃদ্ধি ও নিয়ন্ত্রণ করে। এর নিজস্ব শক্তি থাকলেও তা যে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক নিয়মের মতো নয় সেটাই সত্য। পক্ষান্তরে, একটা মানভাষা তৈরি করার প্রচেষ্টা কোনো গোষ্ঠীর থাকতেই পারে। কিন্তু সেই মানভাষা কোনো ঘোষণার মাধ্যমে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা আদতে নেই। কেননা ভাষা জনসমষ্টির সংস্কৃতিকেই ধারণ করে। জনসমষ্টির সংস্কৃতির পরিবর্তনের সাথে সাথে ভাষারও পরিবর্তন হতে থাকে। যেমন চর্যাপদ যে সময়ের ভাষা, সেই সমাজ এখন আর বর্তমান নেই, সেই ভাষাকেও তাই আর পাওয়া যায় না। চর্যাপদের লিপি থেকে আজকের বাংলাভাষার কত পরিবর্তন ঘটে গেছে। আজকের বাংলা ভাষাও নতুন সৃষ্টি ও নির্মাণের ভেতর দিয়ে ভবিষ্যতে বহুদূর এগিয়ে যাবে।

ভাষার ক্ষমতা এই যে, সে তার শেকড় অটুট রেখেই অন্যান্য পরিবর্তনকে তার কাঠামোর মধ্যে ধারণ করেই নিজেকে সর্বজনীন করে তোলে। এক্ষেত্রে বলা যায়, শক্তিশালী লেখকের হাতেই একটা আকর্ষণীয় ও সুস্পষ্ট ভাষা তৈরি হতে পারে। সেই লেখক যদি নিজ ঐতিহ্যের তথা সংস্কৃতির পক্ষে চিন্তা ও বোধের বলিষ্ঠ শক্তি হয়, তার মানস কাঠামোর মধ্য দিয়েও একটা ভাষা উন্নতর, সমৃদ্ধতর জায়গায় পৌঁছে যেতে পারে। সে ভাষাটাই আঞ্চলিকতাকে আন্তর্জাতিক করে তুলবে তার ডাইলেক্টস সঠিক প্রয়োগ করার মাধ্যমে। সে অর্থে, আমাদের ভাষাকে আঞ্চলিক ভাষা বলা হলেও ক্ষতি নেই।

এক অর্থে সবভাষাই আঞ্চলিক ভাষা। তবে লক্ষণীয় যে, ভাষার উপর কর্তৃত্ব আরোপের ঘটনাও কম ঘটে নি। যারা ক্ষমতা চালায় এবং নিজেদেরকেই একক শক্তি মনে করেন, তারা ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী রাখতে সবসময়ই সংস্কার মূলক কাজ করেন। সংস্কৃতির মর্জির তোয়াক্কা না করেও তারা সেটা করে থাকেন ‘জনগণে’র নামে। মিডিয়ার এই স্বভাব ইদানিং আমাদের চোখ ও শ্রুতির উপর ব্যাকভাবেই চেপে বসেছে। একটা বাংরেজি ভাষাই আমাদের কানে সারাক্ষণ বাজানো হয়। কেন যে ভুলে যাই, ক্ষমতার সাথে ভাষার এই সম্পর্কটা রাজনীতির। যেহেতু ভাষার সাথেই মানবিক সম্পর্কের নিবিড়তর সম্পর্ক। এই রাজনীতি ভাষার ক্ষমতাকে জনসংস্কৃতির বিপক্ষে দাঁড় করায়। যা অনাত্মীয়-সংস্কৃতিকেই প্রতিষ্ঠা দেয়। ‘স্বতঃস্ফূর্ততা’র নামে এই যদি হয় পরিবর্তন, তবে মিডিয়ার ভাষার স্বতঃস্ফূর্ততা বাস্তবগ্রাহ্য পথ দেখাতে কখনোই সক্ষম হবে না। বাংলা ভাষার সাথে দাপুটে সংস্কৃতির ভাষার অতি-মিশেল দিয়ে কাজ করার ভেতর ক্ষমতা কাঠামোর প্রাচীন স্বভাবটাই ক্রিয়াশীল দেখি। আর ক্ষমতা কাঠামোর ভাবুকরা ভাষার ক্ষমতাকে চিরকালই জনগণের মনে করে না, নিজ সম্পত্তি ভাবেন।

আমাদের আঞ্চলিক ভাষা সংখ্যায় অনেক, এবং লৌকিক উপাদানেই গড়া। অথচ ভাষাকে ঠেলে দেওয়া হয় অধরা রহস্যের দিকে। এদেশের ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার ভাষা-প্রকল্প তারই বড়ো প্রমাণ। ফলে ব্যবধান বাড়ছেই ভাষা ও জনগণের মধ্যে। এ আসলে আগ্রাসন। সমাজ ও সময় যেন অচেতন স্তর থেকে কখনো ভাষায় ফুটে না-ওঠে সেই ব্যবস্থাই পাকাপোক্ত হচ্ছে, নিরবচ্ছিন্নভাবে। অতএব একটা সর্বজনীন যৌক্তিক মানভাষা হোকÑ এটা এখন খুবই বাঞ্ছনীয়, যা সমগ্রতার সাথে সামঞ্জস্য রাখবে, আর আঞ্চলিকতার উপর চেপে বসবে না, বরং তার সহযোগী হিসেবেই অগ্রসর হবে। বলতেই চাই কথ্য ও প্রমিত বলে ভাষা’র পৃথকীকরনের যৌক্তিকতা আদৌ থাকে না।

২.
আর এমন খেলা যে ভাষার মাধ্যমেই ঘটতে পারে, তা অনেক আগেই রলাঁ বার্থ, দেরিদা, ফুকো, সাইদের লেখায় আমরা পেয়েছি। আর মার্কস আমাদের সাবধান করে দিয়েছিলেন যে, বুর্জোয়া পদ্ধতিতে শোষণই মূল লক্ষ্য, মুনাফাই শেষ কথা, স্বাধীনতার নামে রাষ্ট্রের ও অপরাপর সমাজ সংস্কৃতিকেও পুঁজিপতিরা হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে পুঁজির পাহাড় তৈরি করে, যা সামাজিক সম্পর্কের মধ্যে ব্যবধান বাড়ায় ও নিপীড়নের সুযোগ করে দেয়। এবং রাষ্ট্রকে একচেটিয়া নিজেদের ভোগ বিলাসে পরিণত করে। এমনকি ভাষাকেও সর্বোচ্চ পন্যায়নের কাজে এখন তুমুলভাবেই ব্যবহার করা হচ্ছে। কবি লেখক সাহিত্যিক বুদ্ধিজীবি সবাই সেই মুনাফার লোভে সবকিছুকে পন্য বানানোর পায়তারায় ব্যস্ত থাকে। মুগ্ধতা, সৌন্দর্য, ফ্যাশন, ফ্যান্টাসি, জাদু, মজা ইত্যাদিতেই সমাজটাকে ভরাট করা হয়। জঠর খালি হলেও চোখ আর কান উপচে ওঠে এসব বায়বীয় মজা, উদ্ভট চরিত্র, কাল্পনিক জাগতে, ও মাথা ভরে ওঠে অবাস্তব ভাবনায়। কাফকা চিরদুর্বোধ্য হিসেবেই প্রতিষ্ঠানকে সবসময় দেখেছেন, বুর্জোয়া রাষ্ট্রই সেই নিকৃষ্ট প্রতিষ্ঠান। যাকে স্বচ্ছতার ভেতর কখনোই পাওয়া যায় না।

অতএব ভাষার ক্ষমতাকে জনগণের পক্ষে নিয়ে আসা জরুরি। এই কাজটা-সবসময় সাহিত্যিকের হাতেই থাকে। পুরোনো শব্দের ভেতর দিয়ে যে চিন্তা আসে, সেই চিন্তা সাহিত্যে ও জীবনে তেমন কাজে লাগে না বলেই তিনি প্রচল শব্দের বিন্যাস ও রুচি পাল্টে দেন, নতুন ভাষারুচি তৈরিতে বাধ্য হন। এর ফলও ব্যাপক, নতুন দৃষ্টিভঙ্গী তথা নতুন সামাজিক পরিবর্তনের ভ্রুণ স্থাপিত হয় সমাজ গর্ভে, সবার অজ্ঞাতে। তার এই ভাষা দিয়ে তিনি নতুন সময়ের সংকটকে শারীরীক অবয়বে প্রত্যক্ষ করে তোলেন। সাহিত্যতো নতুন হয়েই ওঠে। কারণ আমরা মনে করি, সাহিত্যিক সৃজনশীল এই লড়াইয়ের ভেতর দিয়ে আসলে নিজেরই স্বাধীনতাকে সক্রিয় রাখেন। সংস্কারাচ্ছন্ন সাহিত্যিকরা রাষ্ট্রের কেরানিমাত্র। এদের ভীড়েই সাহিত্য প্রচলসখা হয়ে থাকে।

টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর বদৌলতে আমরা দেখতে পাই, মা শব্দটিকে তারা এমনভাবে ভাষার মধ্যে প্রয়োগ করেন, যাতে প্লট ও ফ্লাটের ব্যবসা জমজমাট হয়ে ওঠে। আর তা মানবিক না-হয়ে চোরা ফাঁদে পরিণত হয়। একইভাবে প্রিয় পতাকা, প্রিয় গ্রাম, প্রিয় শৈশবকেও ভাষার মধ্যে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করেন, এবং এর ভেতর দিয়ে ব্যবসায়ির দস্যুপনা রাষ্ট্রীয় বৈধতা পায়। ভাষার এই কৌশলী ব্যবহার নিয়ে সুশীল সাহিত্যিকদের মৃদু আপত্তি থাকলেও তা প্রতিরোধ সক্রিয়তায় কখনো গড়ায় না। এই হলো বুর্জোয়া সাহিত্যিকদের প্রচার মাধ্যম ও ক্ষমতা জারি রাখার কৌশল। ভেবে দেখা হয় না, সামগ্রিক অর্থে ক্ষতি কাদের হচ্ছে। যারা এই পতাকা রক্ত দিয়ে অর্জন করেছে, যারা মায়ের ভাবমূর্তি গড়ে তুলেছে সেই লড়াকু মানুষদেরকেই এ সামগ্রিক প্রক্রিয়াটির ভেতরে অজ্ঞাতে চোখের সামনেই অপমান করা হয়। তাই ভাষার লড়াই জারি রাখার কাজটাই প্রথম, যা একজন সাহিত্যিক শুরু করেন তার লেখার মধ্য দিয়ে।

উল্লেখ্য কথা ও লেখার ভাষা এক জিনিস নয়, কারণ কথার কোনো ব্যাকরণ নেই, লেখার ভাষার ব্যাকরণ আছে, তবে কথার ভাষাকে পর্যবেক্ষণেরই ফল ওই ব্যাকরণ। দেশের বিশেষজ্ঞের এই পর্যবেক্ষণ চলে আদতে বাবু-ভাষার উপর আর তা-ই দিয়ে বর্তমান লিখিত মান-ভাষাটি নির্মিত। বিপরীতে, সাহিত্যিকের কাজ প্রচলিত বাবু ব্যাকরণকে অস্বীকার করা, এবং সকল স্তরের মানুষের ভাষা থেকে ধার করে ভাষাভঙ্গীকে নতুন-স্বাদের দিকে এগিয়ে নেয়। কথাকে শুধু ভাষার কাছাকাছি নয়, ভাষার মধ্যে কথার চূড়ান্ত রূপ প্রকাশ করা। ব্যাকরণের দোহাই দিয়ে আসলে কাকে রক্ষা করা হয়, তা এখন বলাই বাহুল্য। সাহিত্য শুধু কিছু শিক্ষিত লোকের মাঝেই সীমিত থাকার ব্যাপার নয়, কারণ জনগণের নৃতাত্ত্বিক অভিজ্ঞতা ও জীবন উপলব্ধি তাদের কথায় থাকে। অর্থাৎ শব্দই তাদের জীবন। এর মাঝে তাদের রুচি, অভিরুচি চরিত্র বাঁচা মরার আকাক্সক্ষা ও স্বপ্ন জড়িয়ে থাকে। এ শব্দভাঁড়ার তাদের ঘ্রাণ স্বাদ অনুভূতির এক অদ্ভুত মিশ্রণ। তাকে লেখার ভাষাইতো ধারণ করবে। কিন্তু আমরা দেখি এর উল্টো চিত্র। প্রতিষ্ঠানই সাহিত্যিকের উপর কর্তৃত্ব আরোপ করে। প্রতিষ্ঠান জনগণের ভাষাটাই বোঝতে চায় না, বরং নানান ছুঁতায় আড়ালে ঠেলে দেয়। অথচ, একই সাথে, জনগণের ভিত্তিভূমির উপরেই প্রতিষ্ঠান দাঁড়িয়ে থাকার ভান করে। আর প্রতিষ্ঠান নিজের ইচ্ছেমতো গড়ে ও ধ্বংস করে এই সংস্কৃতির বোধ। ফলে প্রতিষ্ঠান সুবিধাভোগীর মনস্তত্ত্ব দ্বারাই পরিচালিত হয়, যে মনস্তত্ত্ব আরোপিত ও কৃত্রিম, যা আসে প্রভূশ্রেণী ও তার মালিক সাম্রাজ্যেবাদের এপিস্টোমলজি থেকে। দু’শ বছর যারা লুণ্ঠন করেছিলো আমাদের এবং শিখিয়েছিলো জাতে পাতে ধর্মে বিন্যস্ত থাকতে আর তাদের শিক্ষাদীক্ষা কোর্টকাচারির নিয়ম মেনে নিতে। যারা সেই দীক্ষাকেই আজও গুরুশিক্ষা মনে করি, এবং তাদের অধীনস্ত থাকতে ভালবাসি সেই আমরাই এমন মিডিয়ার এই মিষ্টি কুয়াশার জয়গান গাই। ইতিহাসের সেই শৈশব-অবস্থা কি এখনো আমাদের কাটেনি। আমরা এখনো আমাদের নিজস্ব উপাদানগুলোর উপর তেমন আস্থা রাখি না। অন্য কোনো জীবনবোধকে চালিয়ে দেই নিজের বলে। আর ক্ষমতা দখলের রাজনীতির অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হিসেবে ভাষার ব্যবহার সেই যে শুরু হলো, আর পাল্টায়নি। রাজনীতির ভেতর থেকে কাদামাটির গন্ধ গাঁও-গেরামের প্রকৃতি, কৃষিজমির চাষী, কৃষাণীর স্বপ্ন কথা বলে ওঠেনি। বলে উঠলেও স্বীকৃতি পায়নি নানাভাবেই। এভাবে, এভাবেই ক্ষমতার ভোগবিলাসের লোভে জনগণের ভাষা বাতিল/অতি-বিকৃত হয় এবং কখনো সেটাই দেখছি।


লেখক:

আমীর খসরু স্বপন
কবি ও প্রাবন্ধিক


error: Content is protected !!