তর্জনীর জ্যোতির্বলয় এবং ভাতফুল

তর্জনীর জ্যোতির্বলয়

বাংলার বৃক্ষ, ধানক্ষেত, ধুলোর সাথে মিশে থাকা বাউল সুর সুরোত্তমের চোখে এনেছিলো কাস্পিয়ানের জল। এ সুরের ভাওয়ালিয়ায় ‘সহজ মানুষ’ ‘নির্ভয় বীর্যের বার্তা’ প্রচার করেছে বলে অগণ্য বধ্যভূমি নরমেধের সাক্ষী হয়েছে–বীরের রক্ত আর বীরনারীর ফালাফালা শরীর ভেসেছে শোকার্ত নদীনালায়। নিহত যোদ্ধা, বিপন্ন শরণার্থী আর শত্রুঘাতী গেরিলার চেতনায় জেগে উঠেছিলো একটি তর্জনীর জ্যোতির্বলয়। আমরা কে না ভালোবেসেছি সুরোত্তমকে? কার গোপন রাত্রিজল স্নিগ্ধ করে নি তাঁর করতল? নিষ্পেষিত কৃষক-মাঝিমাল্লা কিংবা হতদরিদ্র জননীর বুকে তাঁর বিভাস প্রতিবিম্বিত। আজও দুস্থ এক বৃদ্ধা দুধের বাটি হাতে তাঁর জন্য কুঁড়েঘরে অপেক্ষা করেন। ব-দ্বীপের সমস্ত নদী, বাঙালির রক্তস্নাত বর্ণমালা আকুল হয়ে তাঁর আশ্রয় খোঁজে।



ভাতফুল

যেখানে বসে থাকবার কথা নয় সেখানে বসে আছি। একটি জায়গার অন্ধকারহীনতার খোঁজে বেরিয়ে বিপণিকেন্দ্রে হুলাহুপের অসংখ্য বৃত্তের ভেতর মেয়েদের জাফরান ছড়াতে দেখি। ক্রোকাসের নৃত্যকুহক এলিভেটর ডেকে আমাকে নামিয়ে দেয়। আহার নির্বাচনের জন্যে একটি রেস্টুরেন্টে ঢুকে ঘি-মসলার সুলভ সৌরভ মেখে নির্জন বারান্দায় দাঁড়াই, লতার উচ্ছ্বাস অগ্নিপৃষ্ঠায় আঁকে বিয়োগচিহ্ন। নির্বোধের ব্যবস্থাপনা নিরানন্দ ডেকে আনে–এ কথা ভাবতে ভাবতে পথে নেমে পড়ি। কদিনের ভেতর ডালিমের গজিয়েছে ময়ূরপুচ্ছ ; অগ্নিতে ডাবজল ঢেলে দিই। আগামীকালের কর্মদীর্ঘতা পর্তুলাকা রঙের ভেতর ফ্রেসকা খুঁজে নিতে বলে। স্বর্ণলতার ভাতফুলে জেগে ওঠে কবিতার বোন ম্যারো : পরিকল্পনার ছেঁড়া সুতো দিয়ে বিষণ্ণতা ঢেকে ফেলে পরিচিত মৃত্তিকা।


লেখক:

গৌরাঙ্গ মোহান্ত


 

error: Content is protected !!