নবম শ্রাবণ

সৃজনশীল মানুষের সৃজনশীলতার প্রস্ফূটন ঘটে কোন না কোন মাধ্যমে। আর সেই মাধ্যমের অভাবে অনেক বড় বড় প্রতিভাও অকালে হারিয়ে যেতে পারে, হারিয়ে যায়। তাই সেই মাধ্যমের গুরুত্ব অপরিসীম, অনস্বীকার্য। যুগে যুগে সাহিত্যের এই সৃজনশীল প্রতিভাবানদের প্রস্ফূটনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হচ্ছে বই এবং পত্রিকা। প্রিন্ট মিডিয়া তার আদি সূতিকাগার হলেও বর্তমানে ইলেকট্রনিক মিডিয়াও এগিয়ে রয়েছে সমানতালে সারা পৃথিবীব্যপী। এখন তা প্রিন্ট মিডিয়াই হোক বা ইলেকট্রনিক মিডিয়া, সাহিত্যের ময়দানে তাদের ব্যাপ্তি, প্রকাশ এবং উন্নয়ন বিশ্বমিডিয়ায় তাক লাগিয়ে দিচ্ছে প্রতিনিয়ত। ভাষা-শিল্প-সাহিত্য সকল ক্ষেত্রেই এর অবদান অনস্বীকার্য।

কিন্তু একটি পত্রিকাকে রূপ-আকার ও গুণগত মানে এগিয়ে নিয়ে যান সম্পাদক, তার বিদগ্ধতা দিয়ে, তার শ্রম-ঘাম ও ভালোবাসার উন্মাদনা ছাড়া সেই পত্রিকা মৃত। বিশ্বের বহু নামি-দামি সম্পাদকের কাজ আমি দেখেছি, আর মনে হয়েছে এ বড় শক্ত কাজ। অনেক ত্যাগ ও দৃঢ়তার প্রয়োজন, প্রয়োজন তার পত্রিকার প্রতি এবং নিজের কাজের প্রতি পাগলামি পর্যায়ের ভালোবাসা। দেশ পত্রিকার সম্পাদক শ্রদ্ধেয় প্রয়াত সাগরময় ঘোষ এমন একজন সম্পাদক, যাঁকে আমার অনেক কারনেই অনুস্মরণীয় মনে হয়, তাঁর ‘সম্পাদকের বৈঠকে’ এবং ‘হীরের নাকছাবি’ বইদুটি পড়ে আমার মনে হয়েছে এটাই একজন প্রকৃত সম্পাদকের কাজ। তিনি সব দেখবেন, শুনবেন, মনযোগ দিয়ে পড়বেন, কিন্তু বলবেন কম। সমসাময়িক ভালো লেখকদের সাথে অর্বাচীন-প্রান্তিক প্রতিভাদেরও খুঁজে নিয়ে এসে তার প্রতিভার ডালা সাজিয়ে উপস্থাপন করবেন পাঠকের সামনে।

আমি পুরোদস্তুর একজন লিখিয়ে। কবিতা লিখি যৎসামান্য, মাঝে মাঝে গল্প। পত্রিকা করার কোন পূর্ব অভিজ্ঞতা বা প্রস্তূতি আমার ছিল না অকালবোধন এ যুক্ত হওয়ার আগে। একধনের দ্বিধা আর সংকোচ নিয়েই পত্রিকাটির সাথে আমার যুক্ত হওয়া। দ্বিধা ছিলো ‘পত্রিকা করবার মতো ধৈর্য্য কি আমার আছে?’ এই প্রশ্নে, সংকোচ ছিল ‘আমি কি পারবো সম্পাদনার মতো এত কঠিন একটি কাজ করতে?’ এই প্রশ্নে। আমার মনে হয়, কিছু প্রশ্নের উত্তর স্বয়ং সময় দিয়ে দেয়। আমাদের কর্তব্য শুধু নিজের কাজটি করে যাওয়া।

অকালবোধন একটা নদীর মতো, নানা বাঁক আর চরাই-উতরাই পেরিয়ে আজ তার দশম বর্ষে পদার্পণ। যদিও গত বৈশাখ থেকে আমার তার সাথে বয়ে চলা, তবু আমার মনে হয় আমি ধীরে ধীরে তার বহতায় নিজেকে সঁপে দিতে পেরেছি। আর যে পাহাড় থেকে তার জন্ম, তিনি এই পত্রিকার সম্পাদক, আচার্য মিলন, বরাবরই আমাকে সাহস যুগিয়েছেন, আমার কর্মকাণ্ডে ভরসা করেছেন। তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা। কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা আমার সকল সহকর্মী, সকল শ্রদ্ধেয় লেখক এবং পাঠকদের, যারা আমার উপর ভরসা করে তাদের লেখা দিয়েছেন এবং প্রকাশের পর ভালোবাসা ও গুরুত্ব দিয়ে পড়েছেন। আশা রাখি, এভাবেই সকলের ভালোবাসা ও অনুপ্রেরণায় অকালবোধন একদিন বাংলা সাহিত্যের সাগরে পরিণত হবে। এই প্রতিশ্রুতি নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে আমরা বদ্ধপরিকর।

সকল সহকর্মী, শ্রদ্ধেয় লেখক-পাঠকগণ এবং সর্বোপরি সম্পাদককে অকালবোধন এর নবম বর্ষপূর্তিতে জানাই প্রাণঢালা অভিনন্দন, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা।



মন্দিরা এষ
নির্বাহী সম্পাদক, অকালবোধন


error: Content is protected !!