এলোমেলো পথচলার নয় বছর

পথচলাটা এলোমেলো ছিল…
হ্যাঁ, অকালবোধন এর পথচলাটা এলোমেলোই ছিল। ২০১১ তে যে যাত্রার শুরু ধুঁকতে ধুঁকতে চলেছে ২০১৪ অবধি। এরপর পাঁচ বছরের বিরতি। ২০১৯ থেকে অনলাইন যাত্রা। সেটাও অনিয়মিত। এই অনলাইন ধারাবাহিকতায় অই বছরই আবার কাগজের পত্রিকা। ১৯তম মুদ্রিত সংস্করণ। এই সংখ্যাটা প্রকাশের পর থেকেই একটা মাথাব্যথা শুরু হয়। ১৯ মানে নাইনটিন। টিনএজের শেষ সংখ্যা। মাথাব্যথাটা এখানেই। টিনএজ পেরিয়ে অকালবোধন এর যাত্রা তো আর এলোমেলো থাকতে পারে না! এজন্য নতুন করে সম্পাদনা টিম তৈরি করা হয়। এবং নতুন পরিকল্পনা নিয়ে পত্রিকা সম্পাদনা ও প্রকাশ করা শুরু হয়।

আমি স্বীকার করছি, অকালবোধনের গত নয় বছরের যাত্রাটা অনেকটাই এলোমেলো ছিল। আর বন্ধুর তো বটেই। তবে যাত্রা এবং যাত্রার লক্ষ্যের ব্যাপারে অবিচল ছিলাম বরাবরই। না সাহিত্যের রাজনীতি, না অন্যকিছু, কোনকিছুই আমার মনযোগ টলাতে পারেনি কখনো। এখন থেকে অকালবোধনের যাত্রা আর এলোমেলো হবে না। আমরা সুপরিকল্পিতভাবে যাত্রা করবো শাণিত ভবিষ্যতের জন্য।

কৃতজ্ঞতার তালিকাটা নেহাতই ছোট নয়…
গত নয় বছরের পথচলায় অকালবোধনের পাশে অনেকেই ছিলেন। উনিশটি মুদ্রিত সংখ্যা প্রকাশে অকালবোধনের সাথে অনেকেই ছিলেন। তারা কেউ টিমের সদস্য হিসেবে ছিলেন। কেউ টিমের বাহিরে থেকেও সহায়তা করেছেন। আজ এই নবযাত্রায় তাদের সকল সহযোগিতাকে কৃতজ্ঞতা ভরে স্মরণ করছি। তাদের মঙ্গল হোক।

অকালবোধন এর যাত্রা শুরু হয়েছিল কবিতাশ্রম এর মুখপত্র হিসেবে। সে হিসেবে কবিতাশ্রম ও এর সংগঠকদের ধন্যবাদ। অনলাইন যাত্রা সম্ভব হয়েছে মূলত কবিতাশ্রমের সাংগঠনিক সম্পাদক রাজু রায়হানের কারণে। তাকে আশিষ।

যাত্রা দশক পরিবর্তনের…
নয় পেরিয়ে দশ। অকালবোধন একটি দশক সমাপ্তির পথে প্রবেশ করলো। কাকতালীয়ভাবে গত নয় বছরে প্রকাশিত হয়েছে উনিশটি মুদ্রিত সংখ্যা। সুতরাং আগামী মুদ্রিত সংখ্যাটি হচ্ছে দশম বছরে কুড়িতম সংখ্যা। সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি-

১। শ্রাবণ ১৪২৭ থেকে আষাঢ় ১৪২৮ পর্যন্ত সময়টিকে ‘অকালবোধন দশক পরিবর্তন’ বৎসর হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে বছরব্যাপী “দশকপূর্তি উৎসব” পালন করা।
২। এই সময়ের মধ্যে তিনটি মুদ্রিত সংস্করণ প্রকাশের চেষ্টা করা। উল্লেখ্য, করোনা মহামারীর এই সময়ে ‘সিনেমা সংখ্যা’ নামে একটি মুদ্রিত সংস্করণ প্রকাশের ঘোষণা ইতিমধ্যে দেওয়া হয়েছে। লেখক-পাঠক-শুভানুধ্যায়ীর সমন্বিত সহযোগিতা পেলে আগামী ভাদ্রে এই সংখ্যাটি প্রকাশিত হতে পারে।
৩। লেখক-পাঠক-শুভানুধ্যায়ীদের আন্তরিক সহযোগিতা পেলে, ‘অকালবোধন তহবিল’ গঠন করা হবে; এবং লেখক সাম্মানিক প্রদানের চেষ্টা করা হবে।
৪। আগামী একবছরে গৃহীত পরিকল্পনার আলোকে নতুন দশকে অকালবোধন নতুন দিগন্তে পথচলা শুরু করবে।

সমাপ্তির যা কিছু…
লিটলম্যাগ, ছোটকাগজ, ওয়েবজিন ইত্যাদি বিতর্কে না গিয়ে সোজা ভাষায়, অকালবোধন একটি পত্রিকা। নয় বছরের পথচলার অভিজ্ঞতায় কাজ করছে ভাষা, সাহিত্য ও শিল্প নিয়ে। যার প্রকাশের মাধ্যম মুদ্রণ ও অনলাইন। অকালবোধন বাণিজ্য করে না। তবে বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের বিরোধীতাও করে না। প্রকাশনা ব্যয়ের অতিরিক্ত অর্থ না থাকায় লেখক সাম্মানিক দেওয়া সম্ভব হয় না। তবে তহবিল গঠিত হলে লেখক সাম্মানিক প্রদানের অঙ্গীকার করছি। শুধু তাই নয়, যথেষ্ট তহবিল গঠন করা সম্ভব হলে, লেখক সাম্মানিকের পাশাপাশি পত্রিকাকর্মীদেরও সাম্মানিক প্রদানের অঙ্গীকার করছি।

বর্ষপূর্তি আয়োজনের যাবতীয় এবং গত নয় বছরের পথপরিক্রমার যাবতীয় ত্রুটি, ভ্রান্তির জন্য মার্জনা প্রার্থনা করছি। দায় একা আমার। সাফল্য যারা আছেন, যারা ছিলেন, যারা থাকবেন- সবার। আমি বিশ্বাস করি, একটি পত্রিকার সম্পাদক ও সম্পাদনা টিম, লেখক, নিয়মিত পাঠক সকলেই সেই পত্রিকার কর্মী। তাই অকালবোধন সবসময় কর্মীদের পত্রিকা। সকলের সাফল্য কামনা করছি।

মঙ্গল হোক।



আচার্য মিলন
সম্পাদক, অকালবোধন



error: Content is protected !!