পাঁচটি কবিতা | মঈন ফারুক



কে যেন আসে

এ দুর্লঙ্ঘ্য অন্ধকার দুর্ভেদ্য কুজ্ঝটিকার চেয়েও বিভ্রান্তিকর,
উৎপন্ন ঘোরে বন্ধচোখের মতোই খোলাচোখের দৃশ্যপট;
ক্ষুধার্ত মন
পথ খুঁজে খুঁজে
মর্ত্যের মানচিত্রাবলি ছিঁড়ছে এক পাখিআঙুলের নখে।

ওই ছুঁতে চাওয়া, ওই ফুটে থাকা আকন্দের মতো,
কত দিন চোখের জ্যোতি পথ দেখে না,
কত দিন পথের আলো চোখ মাখে না—
ওইসব পথ পথ আনন্দকন্দ, মন মন আনদ্ধ সুখ;
পৃথিবীর ঘূর্ণনে সমতালে অন্ধকার প্রদক্ষিণ করছে
ফিকে হয়ে আসছে অনুরাগ
তবু কে যেন প্রেম দিতে এসে খুঁড়ে খুঁড়ে তোলে
পাতিল গালানো কৃষ্ণবর্ণ দাগ।



চড়ুই

চড়ুই বৃষ্টিতে ভিজলে আরও ছোট হয়ে যায়;
নরম ঝুরঝুরে হয়ে যায় বাসাটিও—
একটু আলো দেখে উঁকি দেয় বাইরে
সূর্য হাসলে যেন তারও হাসি পায় খুব

পৃথিবীকে সেও পালন করে না নির্বোধ মানুষের মতো



পিঞ্জিরার পাখি

পিঞ্জিরায় পাখির নানা অভিমান শুনে
খুঁজে খুঁজে নিজের কথাকে দিয়েছি প্রাণ
যখন ব্যথা ফেটে পড়ে তখন বেজে ওঠে
স্তব্ধ নীরবতাকে ভেঙে চুর-চুর করা গান

তার ভেতর ভাসে— কবেকার সে পুরাণ
আফিমের মতো টানে ঘুরপাক খায়,
সেখানে মৌন স্মৃতির পুথি আঁকানো ছবির মতো
পাটিপাতার আলপনায়

ভেতরে শুনি— কপটেরা আলোর মুকুটে
দম্ভ লুটিয়ে নিরালায় কাটে সেতারের তার,
তা দেখে নেভানো কুপির পাশে বসে কেউ
হাসে, তাচ্ছিল্যে ফিরে ভ্রুকুটি করে আর

তার আক্ষেপ দেখে অভিযোগে ফেটে
মরমী সুরে বেজে বেজে ওঠে ব্যথার দান
যখন ব্যথা ফেটে পড়ে তখন বেজে ওঠে
স্তব্ধ নীরবতাকে ভেঙে চুর-চুর করা গান



কার অপরাধ নিজের কাঁধে

না দিনের রঙ আছে, না রঙের দিন এখানে
অপেক্ষার নিঃশব্দ্য মাতম বেজে ওঠে প্রাণে

বিগত ঘুম শেষে অগ্রীম ঘুমে ব্যস্ত চোখেরা।

অচল চাকা শ্বাস নিতে নিতে ক্লান্ত রোদে
রঙ তার কার অপরাধ নিজের কাঁধে শোধে!



অপরিপক্কতা

অদৃশ্য গতিকে সংখ্যায় দাঁড় করিয়ে
সময়জ্ঞানে বসে থাকে পদার্থমুর্খ—

স্কুল ছুটি হতে না হতে চাকুরীর মেয়াদও তো ফুরায়

এভাবে, সৌম্য বালকেরা বাঁশি বাজাতে বাজাতে
একদিন নিজেই বাঁশি হয়ে ওঠে আর কারও ঠোঁটে


মঈন ফারুক