পাঁচটি কবিতা | রহমান মুজিব



আমার এবং আমাদের পৃথিবী

আমাদের জীবন শৈশবের রাফখাতা
ব্যাথামুখি টাওয়ারের মতো শরীরের ভাঁজে
শত শত ব্যাথার পেরেক যদিও আমরা
মনে রাখি না ভুলের স্রোতে ভেসে যাওয়া
কথা কিংবা সময়

অরণ্যকে কতটুকু জানি
তার ছায়ার বোবা মানচিত্র-সকাল দুপুর
বিকেলের পরাজয়, জীবনেরই আলোকচিত্র

রাত্রিও জ্যোৎস্নার জিহবায় চেটে খায় নদীর বুক
সবুজের ক্যালিওগ্রাফিতে পৃথিবী প্রাণময় মানপত্র

পৃথিবীটা আমার নয়, আমাদের



ঘোড়া

ছেলের আবদারের কনকর্ড বিমানের কাছে
এবারো বাবার স্নেহের ফড়িং ভূপাতিত হয়
বাবা তাই মেলা হতে ছেলেকে কিনে দেন
কাঠের লাল ঘোড়া, হ্রেষা ধবনির বোরাক

বালক বেলায় আমিও ছিলাম সেই ঘোড়ার
যুদ্ধবাজ সওয়ারী, কুরুক্ষেত্রের দুর্ধষ অর্জুন
আর অতিক্রম করি অন্তরীক্ষের আলোকবর্ষ
পলকহীন ছায়াপথ, আর গ্যালাক্সি বিষ্ময়

কখনো কি জেনেছি- কুরুক্ষেত্রে কাঠের
লাল ঘোড়া শুধু জড়তার নিষ্প্রভ গুদাম
পিছু হটা এক বোঝা পরাজয়

বাবা নেই, পরাজয়ের বোঝাটুকু কাধে নিয়ে
আজ আমি সময়ের বিবর্ণ ঘোড়া, সবটুকু পৃথিবী
আমার কুরুক্ষেত্র, পিছু হটা কাপুরুষ আমি



জল মোহর এবং সারারাত

নিমপথে তন্দ্রার ট্রেন সারারাত জার্নি করে
জনপদহীন শুণ্যতায় থামে ভোরের স্টেশন

কখনো কখনো প্রতিক্ষা জলাঞ্জলি দিয়ে
পিছুটানহীন জিরো পয়েন্ট
নিজেকে জয়ের পতাকা করে উড়াতে হয়

উড়াতে পারিনি বলেই- সরল অংকের মতো
আজ জটিল জীবন, ব্র্যাকেট আফটার ব্র্যাকেট
কখনো বা চোখের বরফকলে জল মোহর

জল মোহরে দীর্ঘশ্বাসের স্রোতে, ভেসে যায় সারারাত



কংকাল

আবাদি মাটির বিল এভাবেই ফসলে লেখা হয়
চশমার ফ্রেমে কালো রাতের অন্ধকারে
একদিন মিষ্টি কুমড়োয় ডেবিট করেছি আগুন

মোহতারম- এবার উঠুন, পক্ষীকুঞ্জে ভোরের ঢেউ
রাখালবাঁশিতে উড়ে মধ্য দুপুর, রিমি শুধু ভিন গ্রহের
রাজত্বে জীবিত ছায়া



নির্বোধেরা

নিশ্চয় শিখা হতে শিখরের আলাপন
আলাপচারিতার বীজ বেড়ে উঠে ঠোঁটে, ডাস্টবিনে,
অকেজো লাইটপোস্টে

তারপর শর্তসাপেক্ষ দর্শকরা জয়-পরাজয়ের
ফিনিসিং লাইন জুড়ে গড়ে নেয় বেকুব রাজ্য

কনডমের রোডম্যাপ ধরে এভাবে এগিয়ে যায়
পৌরষের অগ্নিবান্ধব জীবন, যেখানে- ঘাম আর
রক্তের অনুপাতিক ক্যামেষ্ট্রিতে সুস্বাদু রেসিপি

নির্বোধেরা চিকাল অগ্নিমৈথুন বলয়, জলে নেবে না


রহমান মুজিব