পাঁচটি কবিতা | রেজা রাজা



অনুভূতি, অদ্ভূত অনুভূতি

আমার ভেতর জন্ম নেয় এক বোধ
অনেক বোধ
অনুভূতির চাপ চাপ রক্ত মাড়ানো
উদ্বায়ী, নিরাকার অথচ সাকার পাবার দূর্মর ইচ্ছেগুলির দিগন্তজোরা রংধনু।

তোমার কলবের খামচে ধরা
প্রণয়জর্জর অস্ফুট ধ্বনিরাও
গুঞ্জন তোলে আমার নিদারুণ স্তব্ধ মিনারের সুনিবিড় সুনশান রাত্রির দ্রাঘিমায়।

কখনো বিশাল দরিয়ার মাঝি হয়ে
জীবন্ত নীল নদে উড়িয়ে দেই
মন পবনের নৌকার স্পন্দনশীল শাদা বাদাম
চলমান নৌযানে মূলত বহমান আয়ুর তেল ফুরানো ম্রিয়মান নাজুক প্রদীপ।

জেগে ওঠা শিরা জ্বলে নিদ্রালগ্ন অগ্নিগিরির বরফ গলানো সুপ্ততাপে
আপেক্ষিক তাপ খরচ হয় এক লিটার ঘুমন্ত রক্তের
শুধুমাত্র এক ডিগ্রি তাপমাত্রা বাড়াতে
সমাগত আমার আত্মার লুপ্ত ইচ্ছেরা ডানা ভেঙ্গে পড়ে থাকে
ভেসে আসা করুণ সঙ্গীতের অশ্রুঝরা মেলোডিতে।



সমুহ হানা ও বিস্ফোরণ

কাসার বাটিতে হানা দিয়ে
স্তব্ধ হয় শব্দের মস্করা
কম্পন ম্লান হয়, ফুটিয়ে তোলে প্রকান্ড সোনালি জৌলুস

এপাড়া ওপাড়া-
সব পাড়ায়, সকল বাথানে
দলা পাকানো তাবেদার মাড়িয়ে যায়
ভোরের বাতাস, কাঁটায় কাঁটায় –
করুণ বাজে ঘোরলাগা কালের মন্দিরা

অন্ধকার চৌকাঠ বিস্ফোরিত হয়ে
সহসা ফোকলা দাঁতের গলি বেয়ে বেরিয়ে পড়ে পুঁজভান্ডের অন্তর।



নিদ্রাহীনতা ও কিছু ঘটনা

নিদ্রাহীনতা বৃক্ষডালে এক বিশাল বিষন্ন পাখি
জখম হৃদয়ের বার্তাবাহক –
কখনো উড়ে বেড়ায় জাহাজ কোম্পানির মোড়ে
ভালোবাসার আদা, জিরা, হলুদ, মরিচের বাটনা বাটে
ঘসেটি বেগমের শিলপাটায়।

ঘরের কোনে চুপ থাকা সোনালি জামবাটি
সহসা গজানো হা্তে সোহাগ করে নায়িকার স্তন
টিনের চালে করুণ খসে পড়ে ক’টি নক্ষত্রের প্রাণ।

তালহারা বাতাস বয় ফৈজু কবিরাজের আঙিনায়-
রাত্রির ভেজা যোনিদ্বারে সার্চ লাইট দিয়ে খোঁজে
নিদ্রা আনয়নকারী সংগীতের আজিব মলম।



সীমাহীন গহীন ভিতর

আসলে শুন্যে আছি সীমাহীন শুন্যে ভাসি
নিরাকার চয়ন শিখে
এই আমি বেলুন বেশে উড়ছি অপার দূর আকাশে।

নিজের ভেতর কত্ত বড় সমুদ্র এক অপার ধূধূ
ছবি আর বিম্বধারী ফুল ফলাদির বাগান শুধু
খাবিখাই চিত্র ভাসে ছিবি আঁকে নয়ন জলে
জলছবি অশ্রু ফ্যালে গন্ডদেশে বুকের তলে।



বিবিধ জটিলতা

কী যে বলতে চায় তা জানে না-
অথবা জানে-
পইড়া কান্দে সাইপাড়ার শুকনা তালাবে-
মাথার উপরে বাতাস কাটে-
বাজপাখির উড়াল-
আপ সাইড ডাউনে চিৎকার হইয়া থাকে-
একটি দূরাগত শব্দের মশকরা।

কেমনে কমু?
কেমনে কমু?
এইডাই ব্যাক্কের চাইতে-
বড় সমস্যা।
মনের দ্বিধা-
নাইল সুতার গিট্টু হইয়া-
বহু প্যাঁচ কম্বিনেশন মারে
খলখল কইরা হাইসা দেয় বাদামি শেয়াল।

খুব ছ্যাড়াব্যাড়া অবস্থা-
দৌড়ের উপরে থাকে-
ব্যাবাক আউলাঝাউলা লাগে-
জবর হাঁপাইতে থাকে পাগলা মন।


রেজা রাজা